Monday, 18 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২ কলেজে নির্মিত হচ্ছে একাডেমিক ভবন

ইইডি সিলেট জোনে ‘আইসিটি ভবন প্রকল্প’

# ৩৮ কলেজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন # ১৪ কলেজে হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৫ এবং সর্বনিম্ন ২০ ভাগ কাজ # নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ করার আশ্বাস

ছাদেক আহমদ আজাদ   

সিলেট অঞ্চলের ২৪ উপজেলায় ‘আইসিটি ভবন প্রকল্প’-এর আওতায় ৫২টি কলেজে একটি করে চারতলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি)। ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের ইতোমধ্যে ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকী নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে জোর প্রচেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ।

ইইডি সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে স্থান সংকুলান এবং তাদের পড়ালেখার স্বাচ্ছ্যন্দ পরিবেশ নিশ্চিত করা। এর অংশ হিসাবে হাইরাইজ (সুউচ্চ) একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে হাত দেয় সরকার। প্রকল্পটির পুরো নাম হচ্ছে-তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহে একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প।

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) সিলেট জোন গঠিত। এ জোনের অধীনে ১১টি সংসদীয় আসনের ২৪টি উপজেলা রয়েছে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের এলাকায় ৫টি কলেজে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে আইসিটি কলেজ প্রকল্প (১৫০০ কলেজ প্রকল্প) নামে একটি প্রকল্প একনেকে পাস হয়। সে সময় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন সিলেটের কৃতিসন্তান নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। এজন্য এ প্রকল্পের অধীনে ২০১৬ সালে সিলেট জোনে ৫২টি কলেজে নতুন ডিজাইনে চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান, কার্যাদেশ প্রদান পরবর্তী দৃষ্টিনন্দন চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তবে কিছু সংসদীয় আসনে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম এবং অল্প কয়েকটি আসনে ৫টির অধিক ভবন নির্মাণ হচ্ছে।

ইইডি সিলেট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল হাকিম জানান, এ প্রকল্পের একেকটি একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ প্রকল্পের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়। বর্তমান সরকারের আমলে আরো ১০ ভাগ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। এ প্রকল্পের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, এ প্রকল্পের অধীনে ৩৮টি কলেজে চারতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এ কলেজগুলোতে নান্দনিক পরিবেশে একাডেমিক অধ্যয়ন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, সিলেট জেলায় ৮টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ৬টি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ ১৪টি কলেজের গড়ে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান প্রকৌশলী নজরুল হাকিম।

সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে সিলেট জেলায় মদন মোহন কলেজ, ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ (৫ম তলা), শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজ (৫তলা), আম্বরখানা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, বিশ্বনাথ কলেজ, গোয়ালাবাজার মহিলা কলেজ, তাজপুর ডিগ্রি কলেজ, বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, দক্ষিণ সুরমা কলেজ, মানিককোনা কলেজ, নুরজাহান মেমোরিয়াল কলেজ, পাড়–য়া আনোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কানাইঘাট ডিগ্রি কলেজ, হাফিজ মজুমদার মহিলা ডিগ্রি কলেজ, আল এমদাদ স্কুল এন্ড কলেজ, কুশিয়ারা ডিগ্রি কলেজ ও বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজ।

সুনামগঞ্জ জেলায় বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ, বাদাঘাট কলেজ, শাল্লা কলেজ, বিবিয়ানা মডেল কলেজ, জগদল কলেজ, জগন্নাথপুর কলেজ, দিগেন্দ্র বর্মণ কলেজ, জাউয়া কলেজ, আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ, দোয়ারাবাজার কলেজ ও সমুজ আলী কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে।

এদিকে, আইসিটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে সম্প্রতি ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ, ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, বারহাল কলেজ, জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের শতভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। আজ (২৬ আগস্ট) সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রকৌশল বিভাগের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। কাজ শেষ হওয়া অপর ভবনগুলোও শিগগির কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

এছাড়া, এ প্রকল্পের অধীনে সিলেট জোনের ১৪টি কলেজের একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি। এসব কলেজগুলোর মধ্যে, ভাদেশ^র মহিলা কলেজে ২০ ভাগ, ইছামতি কলেজের ৮৫ ভাগ, তৈয়ব আলী ডিগ্রি কলেজের ৪৫ ভাগ, ইমরান আহমদ মহিলা কলেজের ৫০ ভাগ, দিরাই কলেজের ৮৫ ভাগ, শাহজালাল কলেজের ৮৫ ভাগ, সৈয়দপুর আদর্শ কলেজের ৮০ ভাগ, ইসলামপুর কলেজের ৫০ ভাগ, ময়নুল হক কলেজের ৫০ ভাগ এবং বড়খাল কলেজের ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্টরা চাপ দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এ প্রকল্পের আওতায় উত্তর বিশ্বনাথ আমজাদ উল্লাহ কলেজের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। জালালপুর কলেজ ও গোয়াইনঘাট কলেজের একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। কিছুদিনের মধ্যে এ তিনটি কলেজের শতভাগ কাজ শেষে হস্তান্তর করা হবে।

আইসিটি কলেজ ভবন প্রকল্প নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ, সিলেট জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল হাকিম বলেন, ভবন নির্মাণ কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত সাইট ভিজিট করা হয়। কোথাও কোন ত্রুটি ধরা পড়লে সাথে সাথে সংশোধন করা হয়। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা গুরুতর কোন অভিযোগ পাইনি। দু’তিনটি ভবনে ছোটখাটো ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা সংস্কার করে দিয়েছে।

প্রকৌশলী নজরুল হাকিম বলেন, সদ্যপ্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের প্রচেষ্টায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় যেসব একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে তার বাস্তবায়ন এখনো চলছে। তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল সেক্টরে সিলেটে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

বি.দ্র: অনুরূপ নিউজ আজ দৈনিক সিলেটের ডাক এর শেষ পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে।

 

Developed by :