Saturday, 17 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




আ'লীগের গোলাপগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে

৪০ মে. টন চাল ও দু’হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ।। দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় আ’লীগ — নাহিদ

ছাদেক আহমদ আজাদ

সিলেট বিভাগের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গতকাল সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। বিভাগের অপর বন্যাদুর্গত উপজেলায়ও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ করার কথা রয়েছে।

আ’লীগের প্রতিনিধি দল ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। এমনকি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত সরকারকে জানাতে তাঁরা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন, এমন কথা গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

গতকাল রোববার সকালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার দু’টি স্থানে ২০ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় সিলেট বিভাগীয় কেন্দ্রীয় ত্রাণ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সাথে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহাজ শফিকুুর রহমান চৌধুরী। তবে জগন্নাথপুরে ত্রাণ বিতরণে আ’লীগ নেতা কামরান এবং শফিক চৌধুরী অংশ নেননি।

সূত্রমতে, আ’লীগের ত্রাণ কমিটির সদস্যরা দু’উপজেলায় ৪০ মেট্রিক টন চাল ও দু’হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। প্রতি প্যাকেটে ছিল ২০ কেজি চাল, এক লিটার তেল, এক কেজি আলু, এক কেজি চিনি, এক কেজি ডাল এবং সেমাই, দুধ ও শুকনো খাবার।

গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় ত্রাণ কমিটি দলের নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল। এজন্য ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ এদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন, দুর্যোগ ও মহামারিতে আওয়ামী লীগ সর্বপ্রথম এগিয়ে আসে এবং মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের হাত না থাকলেও সচেতন হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়। আগে উত্তরাঞ্চলে ‘মঙ্গা’ বলে একটি কথা প্রচলিত ছিল। তখন মানুষ না খেয়ে মরতো, কাজের আশায় ঢাকায় ছুটে আসত। কিন্তু বিগত সময়ে শেখ হাসিনার সরকার কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ায় নতুন প্রজন্ম ‘মঙ্গা’ শব্দটি ভুলে গেছে।

সাবেক মন্ত্রী নাহিদ আরও বলেন, এখন দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ ১০টি দল গঠন করে সেসব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আমরা সিলেট বিভাগের দু’টি উপজেলায় ত্রাণ দিয়েছি। পাশাপাশি মানুষের দুঃখ, দুর্দশা লাঘবে প্রধানমন্ত্রী তাদের পাশে আছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন এ কথাটুকু বানভাসী মানুষের কানে পৌঁছে দিচ্ছি। এতে তারা ত্রাণের পাশাপাশি কিছুটা হলেও মানসিকভাবে শক্তিশালী হবেন।

তিনি বলেন, আমরা শুধু ত্রাণ দিচ্ছি না, পাশাপাশি বন্যায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত সরকারকে জানাতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার সরকার জরুরি ভিত্তিতে এসব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আ’লীগের ত্রাণ প্রতিনিধি দলের সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, বন্যাদুর্গত প্রত্যেক উপজেলায় ইতিমধ্যে সরকারিভাবে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। আমরা আওয়ামী লীগের নিজস্ব তহবিল থেকে আপাতত এ দু’উপজেলায় ত্রাণ দিয়েছি এবং পর্যায়ক্রমে বিভাগের সব উপজেলায় দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারি ত্রাণ ভুক্তভোগী মানুষ ঠিকমতো পাচ্ছে কি-না তা আমরা খতিয়ে দেখছি। এছাড়া যেখানে ত্রাণের প্রয়োজন হবে আ’লীগ তাৎক্ষনিক সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দিবে। আমরা সেভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত রেখেছি।

গোলাপগঞ্জ থেকে মাহফুজ আহমদ চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গতকাল সকালে পৌরসভার সরস্বতী নয়াটুল এবং দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ইউনিয়নের এক হাজার বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেলের সভাপতিত্বে ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ত্রাণ প্রতিনিধি দলের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিরা বেগম শিলা, বাদেপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, শরিফগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম এ মুহিত হীরা, উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আকবর আলি ফখর, বাঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আর্জমন্দ আলী, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমদ, আমুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক নাজিমুল হক লস্কর প্রমুখ।

জগন্নাথপুর থেকে অমিত দেব জানান, গতকাল বিকেলে সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া বাজারে বন্যাদুর্গত ৬ শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মধ্যে জনপ্রতি ২০ কেজি চাল, এক কেজি চিড়া, ৫০০ গ্রাম তেল, ৫০০ গ্রাম ডাল, ৫০০ গ্রাম গুড় ও একটি লাইটার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আকমল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সিদ্দিক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, আ’লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম বকুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক নুরে আলম উজ্জ্বল, প্রচার সম্পাদক গোলাম সাবেরিন সাবু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাক ইসতিয়াক শামিম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তী রাজু, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব, জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া, পরিকল্পনামন্ত্রী’র ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (রাজনৈতিক) মো. হাসনাত হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম, জয়দ্বীপ সুত্রধর বীরেন্দ্র, প্রচার সম্পাদক হাজী আব্দুল জব্বার, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি মনিষ কান্তি দেব মিন্টু, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক মাসুম আহমদ, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল গফুর, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ফয়জুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাফরোজ ইসলাম, সহ সভাপতি কল্যান কান্তি রায় সানী, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মুকিত, হাসান আদিল প্রমুখ।

 

Developed by :