Monday, 16 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




জিততে বাংলাদেশের চাই ৩১৫

ক্যাচ মিসের সঙ্গে চললো বাজে ফিল্ডিংয়ের মহড়া। বাংলাদেশের ‘গা ছাড়া’ মনোভাবের সঙ্গে কুশল পেরেরার অসাধারণ সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কা পেল বড় সংগ্রহ। কলম্বোর প্রথম ওয়ানডেতে পেরেরার ১১১ রানে ভর দিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে করেছে ৩১৪ রান।

রান আউট মিস কিংবা ক্যাচের সুযোগ নষ্টের সঙ্গে গোটা ম্যাচেই হয়েছে বাজে ফিল্ডিং। শ্রীলঙ্কার রান তাই ছাড়িয়েছে ৩০০। অবশ্য এই স্কোরে সবচেয়ে বড় অবদান সেঞ্চুরি পাওয়া কুশল পেরেরার। ১০ রানে প্রথম উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কাকে টেনে তোলেন তিনি ওয়ান ডাউনে ‍নেমে। ৯৯ বলে ১৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় খেলেন ১১১ রানের ইনিংস।

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ব্যাট থেকে এসেছে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮ রান। মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ মিসে ‘দ্বিতীয় জীবন’ নিয়ে কুশল মেন্ডিস করেন ৪৩। ২৫ রান এসেছে লাহিরু থিরিমানের ব্যাট থেকে। শেষ দিকে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ১২ বলে খেলে যান ১৮ রানের ইনিংস। আর লাসিথ মালিঙ্গা ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসকে অপরাজিত থাকেন ৬ রানে।

লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে বাংলাদেশের প্রায় সব বোলারকেই দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। এর মধ্যেও সবচেয়ে সফল শফিউল ইসলাম। এই পেসার ৯ ওভারে ৬২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ১০ ওভারে ৭৫ রান খরচায় মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন ও সৌম্য সরকার।

শফিউলের দ্বিতীয় উইকেট

লম্বা সময় পর ওয়ানডেতে নেমেছেন শফিউল ইসলাম। বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট এনে দেওয়া এই পেসার আবার পেলেন সাফল্য। থিসারা পেরেরাকে ফিরিয়ে পেয়েছেন তিনি দ্বিতীয় উইকেট।

আক্রমণাত্মক হওয়ার আগেই থিসারাকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছেন শফিউল। বাজে বিশ্বকাপ কাটিয়ে এবারের সিরিজ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল লঙ্কান ব্যাটসম্যানের। কিন্তু পারলেন না তিনি। ডিপ এক্সটা কাভারে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েন তিনি মাত্র ২ ‍রান করে।

মোস্তাফিজের শিকার থিরিমানে

দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া শ্রীলঙ্কাকে পথে ফেরান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও লাহিরু থিরিমানের জুটি। অবশেষে থিমিরানেকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

এই পেসারের বলে ডিপ মিডউইকেটে থিরিমানে ক্যাচ দিয়েছেন সৌম্য সরকারকে। আউট হওয়ার আগে ম্যাথুজের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে তিনি গড়ে যান ৬০ রানের জুটি। আর ব্যক্তিগত স্কোরে ৩০ বলে ১ বাউন্ডারিতে করেন ২৫ রান।

আম্পায়ার আউট না দিলেও মাঠ ছেড়ে গেলেন কুশল মেন্ডিস!

‘ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট’— কথাটার যথার্থ প্রমাণ দিয়ে গেলেন কুশল মেন্ডিস। বোলার রুবেল হোসেন কিংবা উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম, কারও আবেদন জোরালো ছিল না। আম্পায়ারও আমলে নিলেন না বিষয়টি। এরপরও মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন কুশল মেন্ডিস! অন্য কেউ বুঝতে না পারলেও এই ব্যাটসম্যান ঠিকই জানতেন বল তার ব্যাট ছুঁয়ে গেছে মুশফিকের গ্লাভসে। ভদ্রতার জ্বলন্ত উদাহরণ তৈরি করে ‘ওয়াক’ করলেন তিনি।

মাহমুদউল্লাহর সৌজন্যে ব্যক্তিগত ২৮ রানে ‘জীবন’ পেয়েছিলেন কুশল মেন্ডিস। এবার আম্পায়ার আউট না দিলেও স্বেচ্ছায় মাঠ ছেড়ে গেলেন তিনি। রুবেলের বলে মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়ার আগে ৪৯ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করে যান ৪৩ রান।

সেঞ্চুরিয়ান পেরেরাকে ফেরালেন সৌম্য

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি পূরণ করলেন কুশল পেরেরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক এই ব্যাটসম্যান ৮২ বলে পূরণ করেন সেঞ্চুরি। যদিও তিন অঙ্কের ঘরে যাওয়ার পর বেশিদূর যেতে পারেননি। ১১১ রানে সৌম্য সরকারের শিকার হয়ে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে।

শুরুতে অভিষ্কা ফার্নান্ডোর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া স্বাগতিকদের টেনে তুলে মারমুখী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নেন কুশল পেরেরা। ৩৮ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে পারফরম্যান্সের ধারা সচল রাখেন তিনি। চমৎকার ব্যাটিংয়ে শতকও পেয়ে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত সৌম্যর বলে শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন তিনি মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে। ৯৯ বলের ইনিংসটি পেরেরা সাজান ১৭ চার ও ১ ছক্কায়।

ক্যাচ ছাড়লেন মাহমুদউল্লাহ

জুটি ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করলেন মাহমুদউল্লাহ। বল হাতে ছোঁয়ালেও তালুবন্দী করতে পারেননি তিনি। তার সৌজন্যে নতুন ‘জীবন’ পেলেন কুশল মেন্ডিস।

দুই কুশল- পেরেরা ও মেন্ডিসের ব্যাটে দুর্দান্ত গতিতে ছুটছে শ্রীলঙ্কা। ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়া জুটিটা ভাঙার সুযোগ তৈরি করেছিলেন বোলার সৌম্য সরকার। কিন্তু কুশল মেন্ডিসের ব্যাট ছুঁয়ে বাতাসে ভাসতে থাকা বল লং অনে অনেকটা দৌড়ে এসে হাতে নিলেও তালুবন্দী করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। তার ব্যর্থতায় নিশ্চিত একটি উইকেট হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। কুশলের রান ছিল তখন ২৮।

দুই কুশলের ঝড়

ঝড় তুলেছেন দুই কুশল- পেরেরা ও মেন্ডিস। পেরেরা আক্রমণাত্মক ছিলেন শুরু থেকেই। মেন্ডিস একটু সময় নিয়ে গর্জে উঠেছেন। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরের ভিত পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

কুশল পেরেরা ইতিমধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে হাঁটছেন সেঞ্চুরির পথে। যাতে কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন ৫০ ছাড়ানো জুটি। ২৪ ওভারে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৬৪ রান।

অধিনায়ককে ফেরালেন মিরাজ

১০ রানে প্রথম উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কাকে টেনে তুলছিলেন দিমুথ করুণারত্নে, অধিনায়কের সঙ্গে ক্রিজে দাপট দেখান কুশল পেরেরা। অবশেষে তাদের শক্ত জুটি ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরাজ তার পঞ্চম ওভারে করুণারত্নেকে ফেরান। লঙ্কান অধিনায়ককে শর্ট ফাইন লেগে মোস্তাফিজুর রহমানের সহজ ক্যাচ বানান এই স্পিনার। ৩৭ বলে ৩৬ রান করেন করুণারত্নে।

কুশলের রিভিউয়ে বাংলাদেশের হতাশা

তৃতীয় ওভারে অভিষ্কা ফার্নান্ডোর বিরুদ্ধে এলবিডাব্লিউর আবেদন জানিয়ে রিভিউ নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আম্পায়ারের আউট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। রিভিউ হারায় বাংলাদেশ। রিভিউ আরও একবার হতাশ করেছে সফরকারীদের।

১২তম ওভারে কুশল পেরেরার বিরুদ্ধে শফিউল ইসলামের কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার আউট দেন। কিন্তু লঙ্কান ব্যাটসম্যান রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। ৩৯ রানে জীবন পেয়েছেন পেরেরা। ৩৮ বলে ১১ চারে তিনি পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চুরি।

শফিউল পেলেন প্রথম উইকেট

নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেট পেলেন শফিউল ইসলাম। অভিষ্কা ফার্নান্ডোকে ৭ রানে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ১০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারানোর ধাক্কা শ্রীলঙ্কা সামাল দিয়েছে দিমুথ করুণারত্নে ও কুশল পেরেরার ব্যাটে।

টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে টস হেরে ফিল্ডিং পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডে খেলছেন শফিউল ইসলাম। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সবশেষ একদিনের ক্রিকেট খেলেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।

শ্রীলঙ্কা একাদশ: দিমুথ করুণারত্নে (অধিনায়ক), কুশল পেরেরা, অভিষ্কা ফার্নান্ডো, কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, লাহিরু থিরিমানে, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, থিসারা পেরেরা, নুয়ান প্রদীপ, লাহিরু কুমারা, লাসিথ মালিঙ্গা।

 

Developed by :