Thursday, 22 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




দায় নাহিদের! বিয়ানীবাজারে যুবলীগের কমিটিতে কারা আসছেন?

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম: বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবলীগের রূপরেখা প্রণয়ন কমিটির দায়িত্বশীল তিন নেতা এক টেবিলে বসতে পারেননি। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একাধিক তালিকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি’র হাতে পৌঁছানো হয়েছে। এ অবস্থায় কমিটি হবে, না জেলা কাউন্সিলর তালিকায় জন্য তাদের নাম পাঠাবেন তা এ মুহূর্তে বলা মুশকিল।

সূত্রমতে, আগামী ২৮ জুলাই থেকে উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে কেন্দ্র থেকে শোকজ পাঠানো হবে। সদুত্তর না পেলে তাদেরকে সাময়িক কিংবা স্থায়ী বহিস্কার করা হতে পারে। এ অবস্থায় চিহ্নিত এসব নেতাদের পক্ষে যারা প্রকাশ্যে মাঠে কাজ করেছেন তাদেরকে যুবলীগের কমিটি কিংবা কাউন্সিলর তালিকায় নাম দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে কি-না তা এমপি নাহিদকে ভেবে দেখতে হবে। নাহিদ অনুসারি গুটিকয়েক নেতা নিজেদের আখের গোছাতে নানা কারণে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাথে আঁতাত করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তাদেরকে কমিটিতে ঢুকাতে একঘাটে জল খাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি তালিকা এমপি নাহিদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এখন তাদের একটাই লক্ষ, নাহিদের ইমেজ ক্ষুন্ন করে হলেও ‘নিজে বাঁচলে বাপের নাম’ রাজনীতি কিংবা অন্যান্যক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।

তবে বিগত ১০বছরের স্বর্ণযুগে যারা নুরুল ইসলাম নাহিদের ধারেকাছে ছিলেন না কিংবা কোনধরণের সুযোগ সুবিধা নেননি, অথচ তারা ছিলেন নাহিদের একান্তই শুভাকাক্সিক্ষ। এসব নেতাকর্মী এবার জেগে উঠেছেন। তাঁরা কোনভাবেই এমপি নাহিদের ব্যক্তিগত ইমেজ আর ক্ষুন্ন হতে দিতে চাননা। তাদের একটাই বক্তব্য, বিজ্ঞ নাহিদ গত ১০ বছরের সুবিধাভোগীদের দিকে একবার তাকান, তারা এখন কি করছে কার সাথে চলছে দৃষ্টি দিন। তখন বুঝতে পারবেন, আসলেই থলের বিড়াল কালো না সাদা। তাদের মতে, নুরুল ইসলাম নাহিদ যদি গুরুত্ব দেন তাহলে যুবলীগের কমিটি গঠনে সতর্ক হবেন।

বিগত ১০ বছর নুরুল ইসলাম নাহিদ মন্ত্রী ছিলেন। গণমানুষের জন্য দু’হাত উজাড় করেছেন। কিন্তু তিনি জনপ্রিয় হতে পারেননি। এর নেপথ্যে যারা প্রতিবন্ধক ছিলেন তারা আবারও নিজেদের আখের গোছাতে যুবলীগ কমিটির নামে নুরুল ইসলাম নাহিদকে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। এরকম একটি বক্তব্য উপজেলাজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকের মতে, কেন্দ্রীয় আ’লীগের শোকজ পাঠানোর আগপর্যন্ত এমপি নাহিদকে যুবলীগ বিষয়ে ধীরে অগ্রসর হওয়া উচিত। যারা দলের জন্য প্রতিবন্ধক হবেন তাদের কর্মীসমর্থক বিষয়েও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দলের নিবেদিত কর্মীদের মতে, নির্বাচন আসলে প্রকাশ্যে নৌকাবিরোধীতা আর কমিটিতে এমপি নাহিদ তাদেরকে পুনর্বাসিত করবেন তা মোটেও গ্রহণযোগ্য হবে না। এমন কাজ হলে নুরুল ইসলাম নাহিদ আজীবন অভিশপ্ত হবেন বলেও তাঁরা মন্তব্য করেছেন। আবার নাহিদ শুভাকাক্সিক্ষদের ধারণা, নৌকাবিরোধীদের যুবলীগের পদ দিলে কূটকৌশলে কেউ না কেউ প্রমাণসহ তা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌছে দিবে। তখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছুটা হলেও নুরুল ইসলাম নাহিদের ইমেজ ক্ষুন্ন হবে। একটি মহল কৌশলে এ কাজটি করাতে নাহিদ অনুসারি দু’একজনকে বিশেষ ‘টোপ’ দেওয়ারও খবর চারিদিকে রটেছে। যদিও এসব কথার ভিত্তি কতটুকু তা বলা মুশকিল।

যুবলীগ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আব্দুল হাছিব মনিয়া এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘নাহিদ ভাইয়ের কথামতো আমরা তিনজন একসাথে বসতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু আতাউর ভাই আমাদের সাথে বসেননি। পরে আমরা সিনিয়র কয়েকজন আ’লীগ নেতাদের সাথে পরামর্শ করে ২১জনের একটি তালিকা পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান বলেন, দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকাবিরোধীদের যখন ‘শোকজ’ বহিস্কারের চিন্তা করছেন তখন তাদের সাথে বসা মানে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করার শামিল। তিনি বলেন, যুবলীগের কমিটি করার জন্য অনেক উদ্যোগ নিয়েছি, তখন কারা করতে দিলনা তা আওয়ামী পরিবারের সবাই জানে। এখন কমিটি হলে, নৌকাবিরোধীরা এতে স্থান পেলে এর দায়দায়িত্ব কে নেবে?

 

Developed by :