Thursday, 22 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বিশ্বনাথ-লামাকাজী সড়কে ২০ টন সিমেন্ট নিয়ে গর্তে ট্রাক

বিশ্বনাথ: আইন অমান্য করে দূর-পাল্লার বাস ও বালু-পাথর-সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক দিন-রাতে অবাদে চলাচলের কারণে ‘বিশ্বনাথ-রামপাশা-লামকাজী সড়কে’ সৃষ্ট গর্তে আবারও আটকা পড়ল ২০ টন (৪শত বস্তা) সিমেন্ট বোঝাই এ.কে.এস পরিবহনের ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-১০৩৩)।

সোমবার দুপুরে উপজেলার কাদিপুর গ্রাম (খান অটো মিলের সামনে) এলাকায় সড়কের গর্তে ট্রাক আটকা পড়ার পর সড়কে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়।

এতে ছোট-বড় যানবাহনের যাত্রীদেরকে পোহাতে হয়েছে চরম দূর্ভোগ। অথচ আটকা পড়া ট্রাকটির মালামাল বহনের প্রকৃত ধারণ ক্ষমতা ৭টন। অতিরিক্ত মালামাল বহন করার কারণেই প্রতিনিয়তই সড়কটিতে বাস-ট্রাক আকটা পড়ছে।

২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয় জনগূরুত্বপূর্ণ ‘বিশ্বনাথ-রামপাশা-লামাকাজী সড়কটি। কিন্তু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হতে না হতেই সড়ক দিয়ে চলাচল শুরু করে সুনামগঞ্জ-ঢাকাগামীসহ দূর-পাল্লার বাস এবং ছাতক থেকে এসড়কটি ব্যবহার করে সিমেন্ট-পাথর-সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক। আর রাতের বেলা এসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। আর ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে একের পর এক গর্ত সৃষ্টি হতে থাকে। আর দিন দিন এসব গর্তগুলো বড় হয়ে মিনি পুকুরে রুপান্তরিত হতে থাকে। বাড়তে থাকে এলাকাবাসীর দূর্ভোগ। অথচ সড়ক ভাঙ্গা রোধ করতে রাতের আধাঁরে এসড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করার প্রদক্ষেপ গ্রহনের দাবি এলাকাবাসী জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যার কারণে সড়ক সংস্কারে ব্যয় হওয়া সরকারের ১০ কোটি জলে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইন অমান্য করে ‘বিশ্বনাথ-রামপাশা-লামাকাজী সড়ক’ দিয়ে আন্ত:বিভাগীয় এসব বড় বড় বাস-ট্রাক যাতে এই সড়ক দিয়ে চলাচলা না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সম্প্রতি বিশ্বনাথ থানা পুলিশ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর কাছে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও দাবী জানানো হয়েছে।

গর্তে আটকা পড়া এ.কে.এস পরিবহনের ট্রাকের চালক তুহিন মিয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ২০ টন (৪শত বস্তা) সিমেন্ট নিয়ে তিনি ছাতক থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন।

২০ টন সিমেন্ট বোঝাইকৃত ট্রাক নিয়ে নিয়ম বর্হিভূতভাবে কেন এই সড়ক দিয়ে প্রবেশ করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘এভাবে অনেক গাড়ি এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে, তাই আমিও গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি’।

বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, সড়কের গর্তে ট্রাক আটকা পড়ার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রাকটি সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর এ সড়ক দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করার জন্য প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

Developed by :