Wednesday, 16 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বন্ধু মোস্তফা সেলিমের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন

সৌমিত্র দেব।।

৮ জুন শুক্রবার, আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ, সারাদিনই ছিল থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে টিপ টিপ বৃষ্টি। সন্ধ্যার আগেই প্রকৃতি শান্ত হয়ে গেল। আকাশের চোখে আনন্দের অশ্রু। আমার প্রবাসী বন্ধু এনামুল করিম সুহেলকে নিয়ে পা বাড়ালাম নাগরীলিপি গবেষক, সংগ্রাহক, লেখক ও খ্যাতিমান প্রকাশক মোস্তফা সেলিমের ৫০ তম জন্মদিন উপলক্ষে সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত আনন্দ আড্ডায়, রাজধানীর শান্তিনগরে পিবিএস সেন্টারের ৬ তলায়।

মনকাড়া আয়োজন এবং লেখক, প্রকাশক, পাঠক এবং সেলিমের শুভানুধ্যায়ীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি থেকে বোঝা গেল মোস্তফা সেলিম কাজ কতটা আদৃত ব্যক্তি ।

সেলিম লেখালেখি শুরু করেন ছাত্রজীবনেই, ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার প্রথম গ্রন্থ। তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তিনি বাংলা ভাষার লুপ্ত প্রায় সিলেটি নাগরী লিপিকে আবার আলোর মুখ দেখিয়েছেন। বলা যায় পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তার গবেষণা, প্রকাশনা এবং সাংগঠনিক ভূমিকায় নাগরীলিপি ফিরেছে স্বমহিমায়। ক্রমে ক্রমে তিনি প্রকাশক সমাজের গর্ব হয়ে ওঠায় তাই তাকে কেন্দ্র করে সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্য পরিষদের আয়োজনটিও ছিল একটু অন্য রকমের।

নাগরী লিপিতে পুঁথি রচয়িতা আঠারো শতকের মরমী কবি দীন ভবানন্দের গান দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী সেলিম চৌধুরী। তারপর মোস্তফা সেলিমকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সৃজনশীল ঐক্য পরিষদ নেতা ওসমান গণি, মাজহারুল ইসলাম এবং কামরুল হাসান শায়েক।

এরপরই সম্মিলিতভাবে উপিস্থিত প্রকাশকগণ তাকে ফুল দিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাকে ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত করেন। তার হাতে তুলে দেন উপহার সামগ্রী ।

একে একে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির উপ পরিচালক ডক্টর তপন বাগচী, কথাসাহিত্যিক সিরাজুল ইসলাম মুনির, কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার, ছড়াকার চন্দনকৃষ্ণ পাল, চলচ্চিত্র নির্মাতা সরোয়ার তমিজউদদীন, কবি ও শিক্ষক জেবুন্নেছা হেলেন, কবি লিলি হক, কবি হেনা নূরজাহান, খ্যাতিমান প্রকাশক কামরুল হাসান শায়ক, অন্যদিন সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, মামুন খান ইউসুফজী, শিহাব উদ্দিন ভুঁইয়া, মঈন মুরসালিন, রোটারিয়ান সৈয়দ ফরহাদ আব্বাস, রোটারিয়ান ইমরান চৌধুরী।

শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি নিবেদন করলাম স্বরচিত কবিতা। আড্ডায় বক্তারা বলেন, সেলিম ইতোমধ্যেই ইতিহাসে স্থান পাওয়ার কাজটি সেরে ফেলেছেন। তার প্রচেষ্ঠায় বাঙালি জাতির এক গৌরবগাথা পুনরুদ্ধার হল। মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সেলিমপুত্র নাফিস উৎস তার বাবা সম্পর্কে চমৎকার কিছু কথা বলেন। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের অন্যতম দিকপাল ওসমান গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আনন্দ আড্ডা সঞ্চালনা ইফতেখার আমিন। অবশেষে নাফিস উৎসের গিটার সুর তোলে বাবাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে। সব শেষে ছিল নৈশ ভোজ ।

লেখক: কবি, সাংবাদিক।

 

Developed by :