Sunday, 21 July, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




সিলেটে জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে আইনজীবি লাঞ্ছিত

সিলেট: মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সিলেটে আদালত চত্বরে উভয় পক্ষের আইনজীবিদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিবাদী পক্ষের দুই আইনজীবিকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে। এসময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য আদালতে উপস্থিত বাসস’র সিলেট ব্যুরো চীফ মকসুদ আহমদকেও লাঞ্ছিত করা হয়। সোমবার সিলেট মহানগর হাকিম আদালতের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, গত এপ্রিল মাসের ১ তারিখে সিলেটের মইয়ারচরে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামাতো ভাইদের দ্বারা নিজের উপর হামলার অভিযোগ আনেন আইনজীবি বুরহান উদ্দিন। তার উপর হামলার অভিযোগে নিজ মামাতো ভাইসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে ঘটনার ৬ দিন পর জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা দায়েরের পাশপাশি এড. বুরহান উদ্দিন সিলেট আইনজীবি সমিতিকে বিষয়টি অবগত করেন।



এ অবস্থায় আসামীগন উচ্চ আদালত থেকে জামিন গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধি কয়েকজন আইনজীবির মধ্যস্থতায় ঘটনাটির মীমাংসা ও সমঝোতার জন্য দফায় দফায় চেষ্টা করলেও বাদী বুরহান উদ্দিন এ ব্যাপারে কোন সাড়া দেন নি।

এমতাবস্থায়, গত সোমবার সিলেট মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন বিবাদিরা। বিবাদী পক্ষে আইনজীবি হিসেবে নিযুক্ত হন এড. রেজাউল করিম। তাঁর সহযোগিতায় ছিলেন এড. মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী ও এড. একরামুল হাসান শিরু। বাদী পক্ষের আইনজীবিদের হট্টগোলের মধ্যে শুরু হওয়া শুনানি শেষে আদালত আসামীদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। শুনানি শেষে উভয় পক্ষের আইনজীবিরা এজলাস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাদী পক্ষের আইনজীবিরা বিবাদী পক্ষে দাঁড়ানোর অভিযোগে এড. মাছুম বিল্লাহ চৌধুরী ও এড. একরামুল হাসান শিরুর উপর চড়াও হন। এসময় আদালত চত্বরে হট্টগোল ও হাতাহাতি হয়।



এ ব্যাপারে এড. মাছুম বিল্লাহ জানান, সিনিয়র আইনজীবি এড. রেজাউল করিম বিবাদীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন। তাঁর সহযোগিতায় আদালতে শুনানিতে আমিও অংশ নেই। শুনানি শেষে আমরা যখন এজলাশ ত্যাগ করছিলাম, তখন বাদীপক্ষের কয়েকজন আইনজীবি অতর্কিতে আমার উপর হামলা চালায়। এসময় আমাকে রক্ষা করতে গেলে আমার সহকর্মী এড. একরামুল হাসান শিরুকেও লাঞ্চিত করে তারা।



তিনি আরো বলেন, আইনগত সহায়তা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ কেউ দিতে পারে না। কিন্তু বিবাদীদের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। যা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। আমরা এ ব্যাপারে আইনজীবি সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি সমিতি এব্যাপারে সঠিক বিচার করবে।



এ ব্যাপারে সিলেট আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. হোসেন আহমদ জানান, হামলার মত কিছু ঘটেনি। একটি জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বিবাদী পক্ষের আইনজীবিদের সাথে বাদী পক্ষের আইনজীবিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় উত্তেজনা দেখা দিলে আমরা উভয় পক্ষকে নিবৃত করি। পরবর্তীতে কার্যকরী কমিটির সভায় দুই আইনজীবির সদস্য পদ স্থগিত করা হয়।



তিনি আরো জানান, মামলাটির বাদী একজন আইনজীবি। তার উপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কর্মবিরতিসহ কর্মসূচী পালন করা হয় আইনজীবি সমিতির পক্ষ থেকে। তবে কাউকে বিবাদী পক্ষে নিযুক্ত হতে নিষেধ করা হয় নি।



ঘটনার সময় উপস্থিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সিলেট ব্যুরো চীফ মকসুদ আহমদ জানান, আমি আদালত চত্বরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ছিলাম। আইনজীবিদের হট্টগোল শুনে এগিয়ে গেলে কয়েকজন আইনজীবি আমার উপর চড়াও হয়। এসময় সিনিয়র আইনজীবিরা তাদের নিবৃত করেন।




























 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :