Wednesday, 13 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




যুবলীগ প্রথম, ছাত্রলীগ দ্বিতীয়

আওয়ামী লীগের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে আওয়ামী যুবলীগ। দ্বিতীয় সক্রিয় সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগের নিজস্ব পর্যালোচনায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের অঙ্গ এবং সহযোগি সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সংগঠনগুলোকে চাঙ্গা করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষীকি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের স্বীকৃত সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলোকে কার্যকর এবং দ্রুত যেন কর্মসূচী প্রদান করতে পারে সেই লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতির নিজস্ব টিমের রেকর্ড অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে মাত্র দুটি  সংগঠন খুবই কার্যকর। বাকিগুলো প্রায় নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিশেষ দিবস এবং তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষীকি ছাড়া অন্যকোন কর্মসূচী তারা পালন করছে না। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ২৫এ (২) ধারায় সহযোগী সংগঠনগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এখানে মোট ৬টি সহযোগী সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছা সেবক লীগ, আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ, বাংলাদেশ তাঁতী লীগ।



এছাড়াও নিজস্ব গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হবে এরকম দুটি অঙ্গ সংগঠন হলো জাতীয় শ্রমিক লীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির নিজস্ব টিমের মাঠ পরিচালনায় দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাড়া অধিকাংশ সংগঠনের কার্যক্রম প্রায় নিস্ক্রিয়। বিশেষ দিবস উদযাপন এবং দলগুলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি ছাড়া তারা অন্যকোন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নয়। এ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতারা বিভিন্ন রকম নিজস্ব কাজে ব্যস্ত থাকেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন।



কিন্তু কিছুদিন আগেও এই সংগঠনগুলো সক্রিয় ছিল। তাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল। এখন তাদের দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়ে না। আওয়ামী লীগ সভাপতির নিজস্ব গবেষণা টিমের প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রচার প্রচারণার কাজে যথেষ্ট সক্রিয়। বিভিন্ন ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে তারা সংগঠনের কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। আওয়ামী লীগ সভাপতির নিজস্ব টিমের প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, যেকোন দলীয় কর্মসূচীতে যুবলীগের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকে সবচেয়ে বেশি। যুবলীগ সবচেয়ে সংগঠিত সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।



এরপরপরই রয়েছে ছাত্রলীগ। যদিও ছাত্রলীগের কার্যক্রমও আওয়ামী যুবলীগের মতোই। কিন্তু ছাত্রলীগের মধ্যে দ্বিধা বিভক্তি, নানা রকম কোন্দল- অনৈক্য এবং বিভিন্ন রকমের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। এ কারণে ছাত্রলীগের সুনামের চেয়ে সাম্প্রতিক সময় বদনাম বেশি। আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা যদি বাড়াবাড়ি করে এবং দলের ভাবমূর্তী নষ্ট করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই দুটি সংগঠন ছাড়া অন্যান্যদের কার্যক্রম একেবারেই ম্লান। এক সময় আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সক্রিয় সংগঠন ছিলো আওয়ামী স্বেচ্চা সেবক লীগ।



কিন্তু গত ১বছরের বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে পরিচালিত হতো। বিশেষ করে আইভি রহমান যখন এর সভাপতি ছিলেন তখন এটি অত্যন্ত সক্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করত। এখন এই সংগঠনটি মৃয়মান। মহিলা আওয়ামী লীগের বড় অংশই এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। জাতীয় আইনজীবী পরিষদ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ গঠন করে সংঠনের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। আওয়ামী পন্থি আইনজীবীরা স্পষ্টতই দ্বিধাবিভক্ত।



এরমধ্যে একটি ঐক্য প্রক্রিয়া আনার লক্ষ্য দেখা গেছে। কিন্তু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কার্যক্রম তেমন নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ তাঁতীলীগ প্রায় নিষ্ক্রিয় একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শ্রমীক লীগের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন রক্ত সঞ্চালন করে নতুন নেতৃত্ব এনে এগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে যেমন কর্মসূচি করবে তেমনি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করতে হবে।



দলের সাধারণ সম্পাদককে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে অঙ্গসংগঠনগুলো নিষ্ক্রিয় সেগুলোর নেতৃত্বে নতুন নেতৃত্ব এনে সেগুলোকে সক্রিয় করার জন্য। খুব শীঘ্রই এই অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নতুন করে শুরু করা হবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। -বাংলা ইনসাইডার




























 





Developed by :