Monday, 16 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর ক্ষোভ, মাসিক সভা বয়কট

আলিম উদ্দিন, কানাইঘাট: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারী বরাদ্দকৃত দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১৫ কেজি করে বিজিএফএর চাল বিতরণ করার জন্য উপজেলার ৯নং রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ঈদুল ফিতরের ৩ দিন পূর্বে তার ইউপি অফিস থেকে চাল বিতরণের সুবিধার্থে রাজাগঞ্জ ইউপির নয়াবাজারে ভ্যান গাড়ী দিয়ে নেওয়ার পথে খালোপার নামক স্থানে যাওয়ার পর স্থানীয় কতিপয় লোকজন কর্তৃক প্রায় ৫০ বস্তা চাল আটক করেন।

পরে খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ উক্ত চাল গুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর কানাইঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শির্ষেন্দু পুরকায়স্থ কর্তৃক রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ও তার পরিষদের ইউপি সদস্য-সদস্যার বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।


এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা বয়কট করেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। উক্ত চাল আটকের ঘটনা নিয়ে উপজেলার ৯ ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরীর নতুন করে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।


জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের মাসিক সভা ছিলো বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়। উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার পরিচালনায় উক্ত মাসিক সমন্বয় সভায় কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ শাকির সহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যোগদান করলেও উপজেলার ৯ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে কেউই যোগদান করেননি।


খোজ নিয়ে জানায়, উপজেলার ৯ জন ইউপি চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার সকালে তারা কানাইঘাট বাজারে এসে সমবেত হয়ে নৌকা যোগে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লোভাছড়া চা বাগানের বাংলোয় উপস্থিত হয়ে সেখানে এক আলোচনা সভায় মিলিত হন।


উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ, ৭নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ, ৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন, ৩নং দিঘীরপার পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন কাজল, ৪নং সাতবাঁক ইউপির (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আব্দুন নুর, ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ ফয়েজ আহমদ, ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান জেম্স লিউ ফারগুশন নানকা ও ৫নং বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসেন চতুলী। তবে মামলার আসামী থাকায় ৯নং রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আলাপকালে ৭নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ আহমদ বলেন, আমাদের ৯নং রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের উপর বিজিএফএর চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ এনে সম্পুর্ণ অন্যায় ভাবে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।


উক্ত মিথ্যা মামলার সটিক তদন্ত এবং জরুরী সভা আহবান করার জন্য উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরীর কাছে অনুরোধ করেছিলাম আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সকল চেয়ারম্যানবৃন্দ। কিন্তু তিনি উক্ত বিষয়ে জরুরী সভা কিংবা সুষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন না করে এক তরফা ভাবে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা আহবান করায় আমরা উক্ত সভা বয়কট করেছি।


তিনি বলেন, আমরা ইউপি চেয়ারম্যানরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে ঐ মিথ্যা মামলা মোকাবেলা করব তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের কোন আলোচনা কিংবা সমঝোতা হবেনা বলেন জানান তিনি।

এদিকে কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান, সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মামুন রশিদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের একজন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোন মিথ্যা মামলা হলে কিংবা কোন ধরনের সমস্যা হলে আমাদের সকল সুখে-দুঃখে উপজেলা চেয়ারম্যানকে পেয়েছি।


কিন্তু বর্তমান নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরীর উপজেলা পরিষদ পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকায় উপজেলা পরিষদ পরিচালনায় আমাদেরকে আরো হোচঁট খেতে হবে। তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের অভিযোগ শুনে জরুরী সভা আহবান না করে কিভাবে মাসিক সমন্বয় সভা আহবান করলেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলার অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যানরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বুঝা উচিৎ ছিলো, তার সভাপতিত্বে মাসিক সভায় ইউপি চেয়ারম্যানরা আসবেন কিনা।

এ বিষয়ে কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা জরুরী আহবান করতে তাকে অনুরোধ করলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার সঙ্গে আলাপআলোচনা করেছেন। এতে তানিয়া সূলতানা উক্ত চালের বিষয়ে ঈদের আগেই জেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন প্রদানের কারণে এবং ঈদের সরকারী ছুটি থাকায় তিনি জরুরী সভা কিংবা এ বিষয়ে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেন নি।


তিনি বলেন, সকল বিষয়ে উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়। তাই ইউপি চেয়ারম্যানদের উক্ত অভিযোগের বিষয়ে মাসিক সভায় আলোচনা করার উদ্যোগ নিয়ে ছিলাম। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানরা মাসিক সভায় না আসায় তা সম্ভব হয়নি।




 

Developed by :