Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




কমলগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

চা-বাগানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বাদ দিয়ে প্রকাশিত সরকারি গেজেট বাতিলের দাবীতে

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: চা-বাগানে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বাদ দিয়ে স¤প্রতি প্রকাশিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সরকারি গেজেট বাতিলের দাবীতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চৌমুহনা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রম‚লকভাবে প্রকাশিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সরকারি গেজেট বাতিল করা এবং চা-বাগানের ৯৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরকে সরকারি গেজেট অন্তর্ভুক্ত করে পুন:রায় গেজেট প্রকাশ করার আহŸান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা ও জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি মোহন রবিদাস এর স ালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক. উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী, সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা, শমশেরনগর চা বাগানের প ায়েত কমিটির সম্পাদক গোপাল কানু, মাসিক চা মজদুর সম্পাদক সীতারাম বীন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিখা পিরেগু, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রাজভর, সত্য নারায়ন নাইডু, আপন নাইডু প্রমুখ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদের উপদেষ্টা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন চা বাগানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শমশেরনগর চৌমুহনা চত্বর অবরোধ করে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা চলাকালে শমশেরনগরে বড় ধরনের ট্র্যাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। এসময় শমশেরনগর পুলিশ সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চা শিল্পের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর এর শিল্পের প্রাণ হচ্ছে চা শ্রমিক। চা বাগানগুলোতে বাউরী, তেলেগু, রবিদাস, তাঁতি, কাহার, নায়েক, কৈরীসহ ৯৫টি ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর বসবাস। তাদের প্রত্যেকের ভাষা, সংস্কৃতি,আচার-আচরণ, ধর্মীয় রীতিনীত, পূজা উৎসব, বিবাহ প্রথা, সমাজ কাঠামো দেশের মূল জগোষ্ঠী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। নৃ-তাত্তি¡ক সংঘানুসারে চা বাগানের এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কেউ প্রাক দ্রাবিড়ীয়, কেউ আদি অষ্ট্রালয়েড, কেউবা মঙ্গোলীয় আদিবাসীর অন্তুর্ভুক্ত। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চা বাগানের ৯৫টি ক্ষুদ্র নু-গোষ্ঠীদের তালিকা সরকারি স্বীকৃতি (গেজেটভুক্ত) দেয়ার লক্ষ্যে একটি একাডেমিক কমিটিও গঠন হয়েছিল। গত এক বছর যাবত চা বাগানে গবেষনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং শেষ মুহূর্তে চা বাগানের সকল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের গেজেভুক্ত করতে সম্মতি প্রদান করে।

সম্প্রতি ক্ষদু নৃ-গোষ্ঠীদের যে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে তাতে চা বাগানের এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। চা শ্রমিকরা মনে করেন কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই চা বাগানের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গেজেট থেকে বাদ দিয়ে শুধু চা শ্রমিকদের সাথে প্রতারনাই করেনি বরং চা বাগানের ভাষা সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবার হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এখন চা শ্রমিকদের একটাই দাবি যাতে অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে প্রকাশিত ক্ষুদ নৃ-গোষ্ঠীর সরকারি গেজেট বাতিল কলা হয় এবং চা বাগানের ৯৫টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে পূনরায় নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। অন্যথায় দেশের দুই শতাধিক চা বাগানের চা শ্রমিকরা আগামীতে বড় ধরনের আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবে। এ দাবি নিয়ে ১৪ জুন শ্রীমঙ্গলে বড় ধরণের বিক্ষোভ মিছিল করবে বিশ্ববিদ্যালয় চা ছাত্র সংসদ বরে ঘোষনা দেওয়া হয় প্রতিবাদ সভা থেকে।

 





Developed by :