Saturday, 17 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বিশ্বনাথে মাছের খামারে আওয়ামী লীগ নেতার লাশ

বিশ্বনাথ: বিশ্বনাথে নিখোঁজের ৪ ঘন্টার মাথায় মাছের খামারে মিলেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার লাশ। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাতে উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের পুরাণ সৎপুর গ্রামের মৎস্য খামার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহত আওয়ামী লীগ নেতার নাম আহমদ আলী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও এলাকার সালিশ ব্যক্তিত্ব। পূর্ব বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার দিকে আহমদ আলীর মাছের খামারের পুকুরের মধ্যে তার লাশ দেখতে পান এলাকার লোকজন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।সুরতহাল রিপোর্টে লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও একাধিক জখম রয়েছে।

বিশ্বনাথ থানার ওসি মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ বলেন, প্রাথমিক ধারণা আহমদ আলীকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত আহমদ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

খুন হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ আলীর পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শালিস বৈঠক ও মৎস্য আড়ৎ কমিটি গঠনের জের ধরেই দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ মারুফের সঙ্গে তাদেও দ্বন্ধ ছিল। এরই জেরে তার সহযোগীরা খামারের প্রহরীর সঙ্গে যোগসাজস করেই তাকে হত্যা করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তারা জানান, ঘটনার পর থেকেই প্রহরী সৎপুর খাসজান গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে জমির হোসেন পলাতক রয়েছে। আহমদ আলী খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় টিকির বাজারে যান আহমদ আলী। রাত ৮ টা পর্যন্ত পরিবারের লোকদের সঙ্গে আহমদ আলীর কথা হয়। রাত ৮ টার পর থেকেই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ মিলে। আহমদ আলীর মোবাইল বন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী তাকে খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পুকুরের পশ্চিম-দক্ষিণ কোনার দিকে তার লাশ মিলে।

আহমদ আলী খুনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, এলাকার গরীব-দুঃখী মানুষের বন্ধু ছিলেন আহমদ আলী। এরকম মানুষকে কেউ খুন করতে পারে এটা বিশ্বাস করা যায় না। তারা খুনীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

Developed by :