Monday, 22 July, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




ছাতকে আ’লীগের দু’পক্ষে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শ্রমিকলীগ কর্মী নিহত, ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক

ছাতক: ছাতকে সুরমা নদীতে চাঁদাবাজি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলা গুলিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহাব উদ্দিন নামের এক শ্রমিকলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গুলিতে ছাতক থানার ওসি ও চার পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করেছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ছাতক পৌর শহরের জালালিয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। নিহত শাহাব উদ্দিন ছাতক পৌর এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে। তিনি পেশায় তিন ভ্যান চালক বলে জানা গেছে।

শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকত উল্যাহ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ছাতকে সুরমা নদীতে বালু-পাথর বাহী নৌকা থেকে চাঁদা উত্তোলন নিয়ে ছাতক পৌরসভার মেয়র কালাম চৌধুরী ও  জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী এবং  তার ছোট ভাই আওয়ামী লীগ নেতা শামীম চৌধুরীর মধ্যে ব্যবসা নিয়ে কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরেই মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কালাম ও শামীমের সমর্থকরা। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এসময় শাহাব উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শাহাব উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুলিবিদ্ধ আহতদের মধ্যে ছাতক থানার ওসি গোলাম মোস্তফা, দুই এসআইসহ একজন কনেস্টেবলও রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ আহত অন্তত ২০ জন ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে সমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাতক থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে নিজেই গুলিবিদ্ধ হন।

পৌর শহরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

Developed by :