Saturday, 14 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




খালেদার প্যারোলে বিদেশ যাওয়ার খবর প্রোপাগান্ডা

ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায় সূত্রবিহীন একটি খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। এমনকি তারা তারিখও বলে দিচ্ছেন! কিন্তু বাস্তবতা হলো- বিএনপির কোনো সূত্র এমন কিছুই জানে না। অথচ সরকারপন্থী কয়েকটি মিডিয়া প্রতিদিন মনগড়া প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, এ প্রোপাগান্ডাগুলোর সাথে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জড়িত বলে গুঞ্জন রয়েছে। খালেদা জিয়া প্রচণ্ড অসুস্থ, কিন্তু তা নিয়ে মিডিয়াগুলো নীরব। প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সফল করার জন্য ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতিতে লিপ্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। আর্থ্রাইটিসের ব্যাথার কারণে পা নাড়াতে পারছেন না। তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। গতকালও চিকিৎসকরা বলেছেন তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এ অবস্থায় পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু এই অবৈধ সরকার তার জীবন হুমকির মুখে ফেলে সুদূরপ্রসারী স্বার্থ সিদ্ধির ষড়যন্ত্র অব্যহত রেখেছে।

বিএনপির এই নেতা জানান, আইনজীবীরা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে যে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে, তা সহজে জামিনযোগ্য। আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তি চান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বলব- দেশনেত্রীকে নিয়ে মাইনাস ফরমুলা বন্ধ করুন। ওয়ান ইলেভেনের সরকার মাইনাস-টু ফরমুলা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার আপোষহীন কঠোর ভূমিকায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। তারা সফল হলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী আরও বলেন, প্যারোলের নামে মাইনাস তত্ত্বের অশুভ চক্রান্ত করে লাভ হবে না। খালেদা জিয়ার জামিনে আর বাধা দিবেন না। আদালতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। আদালতের উপর থেকে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ হলেই খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসবেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রাত্যহিক খবরের কাগজগুলোর পাতা ভরে থাকছে খুন-ধর্ষণ-পাশবিক নিপীড়নসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায়। দেশে যেন ধর্ষণের উৎসব চলছে। নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শিশু, কিশোরী কিংবা বয়স্ক নারী কেউ নিরাপদ নন। প্রতিদিনই শিশু, কিশোরী ও বয়স্ক নারীরা বর্বরতার শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, পাশবিক নির্যাতনের পর তাদের হত্যাও করা হচ্ছে। গণপরিবহনে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অফিসে কিংবা বাসা-বাড়িতে, রাস্তা-ঘাটে সর্বত্রই নারী ও শিশুরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। সেখানে অন্ধকারের ভোটের এমপি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের সহযোগিতায় মাদরাসার অধ্যক্ষ ওলামা লীগ নেতা সিরাজ উদ দৌলা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন দিনের পর দিন। তার নির্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের জ্ঞাতসারে পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের টাকায় ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদৎ হোসেন শামীম ও ছাত্রলীগ নেতা নুরুদ্দিনের সক্রিয় অংশগ্রহণে সরকারি দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থাকা প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটিয়েছে।

রিজভী বলেন, এরা কতটা বেপরোয়া এবং শক্তিশালী যে, খুনির পক্ষে প্রকাশ্যে মিছিল করে হুমকি পর্যন্ত দেয়! পত্র পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম লোকজন নিয়ে নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে মামলা তোলার জন্য চাপ দিচ্ছে। এরপরেই নুসরাতের পরিবারকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী ধরিয়ে দিলেন একটি ব্যাংকের নিয়োগপত্র। জনমনে ধারণা, দলীয় নেতাকর্মীদের বাঁচানোর সনদই হচ্ছে এই নিয়োগপত্র। যাতে করে পরিবারটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মামলার গতি বদল করা যায়।

রিজভী আরও বলেন, আজ ৯ দিন হলো নুসরাত মারা গেছেন। অথচ এই দুষ্কর্মের সহযোগিতাকারী সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর নুসরাতকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে লাঞ্ছিত করেন মোয়াজ্জেম। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলেও তার কোনো বিচার হচ্ছে না। অন্যদিকে যে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সরকার পুলিশ প্রশাসনের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সৎ সাহস হারিয়ে ফেলেছে।

 

Developed by :