Thursday, 12 December, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




অভিযুক্ত ৫৪ এমপি

উপজেলা নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এবার ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগও। আওয়ামী লীগের যে সমস্ত বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তাদের চেয়ে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মদদ দিয়েছে সে সমস্ত নেতা ও এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক এমপির বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মনে করছেন, যারা দলের শৃঙ্খলা ভেঙে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য প্রভাব বিস্তার করেছেন এমন ৫৪ জন এমপির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের ‍বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে হয়তো তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি যেভাবে দল চালান, তাতে এটা স্পষ্ট যে তাদের ভবিষ্যৎ খুব একটা সুখকর হবে না। কারণ প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়গুলো মনে রাখেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাসৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে তিনি কঠোর হতে কার্পণ্য করেন না।

এছাড়াও আরও ৩২ জন এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন না দিলেও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছেন। যে সমস্ত উপজেলায় তাদের পছন্দের প্রার্থী দেয়া হয়নি, সেসমস্ত উপজেলায় এমপিরা দলীয় প্রার্থীকে হারানোর জন্য পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন বলে আওয়ামী লীগের কাছে তথ্য এসেছে।

এবারের উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্পষ্টতই বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দলীয় কোন্দল বেড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সারাদেশে সাংগঠনিক সফরে বের হবে। এই সফরে লক্ষ্য হবে তিনটি—দলের মধ্যে সৃষ্ট বিভক্তি কমিয়ে আনা; এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয় আনা ও তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা মতভেদের সুরাহা করা এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সব ভূঁইফোড় ও অন্য দল থেকে আগত হাইব্রিড আছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী কাউন্সিলের আগে একটি সুশৃঙ্খল, গুছানো এবং আদর্শ নির্ভর দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে প্রকাশ করতে চান। সরকার পরিচালনায় যে সাফল্য সে সাফল্য যেন আওয়ামী লীগে সঞ্চারিত হয় সেজন্যই আওয়ামী লীগ সভাপতির এ উদ্যোগ। এজন্য যারাই দলের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে, যারাই দলের মধ্যে গ্রুপিং করবে, যারাই দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির জন্য চিহ্নিত হবে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না বলে জানা গেছে। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছে তাঁদেরকে আওয়ামী লীগের বিজয়ী হিসেবেই বরণ করে নেয়া হবে। তারা যেন দলের জন্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করতে পারে সে ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা তাদের করা হবে। -বাংলা ইনসাইডার

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :