Saturday, 1 October, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




ব্রেক্সিট বিষয়ে পার্লামেন্টে দ্বিতীয় ভোটের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ব্রেক্সিট বিষয়ে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্বিতীয়বারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। এর আগের ভোটে গত ১৬ জানুয়ারি ৪৩২-২০২ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন মে। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) চূড়ান্ত ও অর্থপূর্ণ এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।



এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আলোচনায় টেরিজা মে নতুন কোন সম্ভাবনা যুক্ত করতে পারেননি বলেই খবর প্রকাশিত হচ্ছে। বিতর্কিত ‘ব্যাকস্টপ’ পলিসি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তার পক্ষে  সম্ভব হয়নি।



মে’র সঙ্গে ব্রিটিশ এমপিদের আপত্তি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড সীমান্তে প্রস্তাবিত ‘ব্যাকস্টপ পলিসি’ নিয়ে। স্পর্শকাতর এই সীমান্তে কঠোর না হতে ইইউ ও ব্রিটেন একমত হলেও তা বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে দ্বিধা রয়ে গেছে।



যুক্তরাজ্যে ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে তারা ইউরোপের সিঙ্গেল মার্কেট কাঠামোয় আর অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। তাই ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করতে সীমান্তে যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড সীমান্তে। এক্ষেত্রে কার্যকর হবে সেফটি নেট হিসেবে পরিচিত ব্যাকস্টপ পলিসি। অর্থাৎ দুপক্ষের মধ্যে নতুন কোন বাণিজ্য চুক্তির সমঝোতা না হলে শুধুমাত্র নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইইউর সিঙ্গেল মার্কেট সুবিধা পাবে এবং নিরাপত্তার অংশীদার হবে।



তবে ব্রিটিশ এমপিরা আশঙ্কা করছেন, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাজ্যকে জিম্মি করবে ইইউ। দুপক্ষের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও নিরাপত্তার বিষয়কে সামনে রেখে, পুরো যুক্তরাজ্যের জন্য অভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির দাবি তাদের। যা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্যরাষ্ট্র রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড-এর বেশি ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।



টেরিজা মে’র প্রস্তাবনায় দ্বিতীয় ব্রেক্সিট ভোটও এমপিরা প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি একটু জটিল হবে। এক্ষেত্রে নো-ডিল ব্রেক্সিট কার্যকর হতে পারে অথবা যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার প্রস্তাবিত সময় ২৯ মার্চ পেছানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে এমপিদের পক্ষ থেকে। তাই কার্যকর করা হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্টিকেল-৫০।

এছাড়া, চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে হতে পারে আরও দুটি ভোট। ব্রিটিশ এমপিদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২১-২২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ইইউ সামিটে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।



প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে চাইছেন, ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানো হলেও তা যেন খুব বেশি না হয়। কারণ ইইউ পার্লামেন্টের নির্বাচন ২৩-২৬ মে অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশন শুরু হবে জুলাইতে। তাই সময়ক্ষেপণ করলে ব্রেক্সিট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।



এছাড়া, ব্রেক্সিট বিষয়ে আরও একটি গণভোটের সম্ভাবনা থাকলেও সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। তবে বিরোধী লেবার দলের প্রধান জেরমি করবিন বলেছেন, তার দল চাইলে ব্রেক্সিট বিষয়ে আরও একটি গণভোটে তার সম্মতি রয়েছে।

 






















 

Developed by :