Wednesday, 22 May, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন

।। কাজি রমিজ উদ্দিন।।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবার এসেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো আমাদের বড়লেখাতেও বইছে নির্বাচনী আমেজ। প্রধান বিরোধীদল বিএনপি সহ তাঁদের ঘরোনার দলগুলো নির্বাচন বর্জন করাতে উৎসব অনেকটা কম হলেও একই দলের একাধিক শক্ত বিকল্প প্রার্থী থাকায় উত্তেজনাঘন পরিবেশে চলছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য উপজেলাবাসীর সেবক নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা।


এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত কিছু ভাবনা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা অনুভব থেকেই এই লেখার অবতারনা। মূলত এই লেখায় আমি একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী বড়লেখার তিনজন অত্যন্ত বিচক্ষণ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ যথাক্রমে জননেতা জনাব সোয়েব আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব সিরাজ উদ্দিন ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব রফিকুল ইসলাম সুন্দর সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত বিবেচনার একটা খসড়া তোলে ধরার চেষ্টা করব।
প্রথমেই যে কথা বলা প্রয়োজন তা হলো, বড়লেখাবাসীর জন্য এটা অনেক সৌভাগ্যের বিষয় যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী এই তিনজন প্রার্থীই অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন। তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে উচ্চ শিক্ষার সনদ সেই সাথে প্রত্যেকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে মেধাবী এবং বিচক্ষণ। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ইমেজের দিক দিয়েও তাঁরা অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকায় যা একেবারেই বিরল। যে কারণে নির্বাচনী তফশীল ঘোষনার পর প্রথম দিকে উপজেলাবাসী ‘কাকে রেখে কাকে মনোনীত করবে’ এমন একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। তবে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রমেই জনমনে একটা বিষয় প্রায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে কে হচ্ছেন পরবর্তী পাঁচ বছরের উপজেলার কান্ডারী।


এটা অনেকটা অপেন সেক্রেট যে, জনাব সোয়েব আহমদ নিজ যোগ্যতা ও বিচক্ষনাতায় জনগনের কাছে একটা গ্রহণযোগ্য স্থান করে নিয়েছেন তাঁর ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বগুণে। তাঁর এ নেতৃত্বগুণই এই নির্বাচনে অন্যসব প্রার্থী থেকে আলগ করে বিশেষভাবে তাঁকে উপস্থাপন করেছে। ব্যক্তিগতভাবে সোয়েব আহমদ এঁর সাথে আমার একটা হৃদ্যতার সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের সূত্রপাত ৫ই জুন ২০১০ সালে একটা নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে।

ঐ সময়ে আমি সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বড়লেখার কতিপয় অতিউৎসাহি ছাত্রলীগ কর্মী আমার উপর অতর্কিত আক্রমণ করে বসে। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা আমাকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে এবং আমার ক্যামেরা ছিনিয় নেয়। একপর্যায়ে জননেতা সোয়েব ভাই এবং বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব তাজ উদ্দিন ভাই এসে আমাকে উদ্ধার করেন।


ঐ দিন সোয়েব ভাই যদি তাৎক্ষনিক এগিয়ে না আসতেন তাহলে আমার সাথে বড় কোন দূর্ঘটনা ঘটতে পারত। সোয়েব ভাই আমার ক্যামেরা উদ্ধার করে দেন। তখনও তিনি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হননি। সোয়েব ভাইর ঐদিনের ভূমিকার কথা আমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। সেই থেকে পরিচয়, হৃদ্যতা। উনি আমাকে ছোটভাইয়ের মতো স্নেহ করেন, কোথাও দেখা হলে বুকে জড়িয়ে ধরেন। নানান মতের মানুষ হয়ত তাকে নানানভাবে বিবেচনা করতে পারে। তবে আমি মনে করি ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এমন ক্যারেশমাটিক লিডারশিপ দেখিয়েছেন যা বড়লেখাবাসী আগে কোনদিন দেখেনি।


মোটা দাগে বলতে গেলে সোয়েব আহমদ একজন ইউপি চেয়ারম্যান হয়েও বড়লেখায় উপজেলা চেয়ারম্যানের ভূমিকা পালন করেছিলেন বিগত সময়ে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনগনের পারষ্পরিক দাঙ্গা, বিরোধ, বিভেদ নিস্পত্তিতে শালিশ বৈঠক করে তিনি দ্রুততার সাথে সমস্যা সমাধান করে উপজেলাময় যে নজিরবিহীন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন, আমার মনে হয় সেজন্যই জনগন আজ তাঁকে নিয়ে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে।


সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযাদ্ধা জনাব সিরাজ উদ্দিনকে নিয়ে বলতে গেলে তিনি বড়লেখার রাজনীতিতে একজন পোড় খাওয়া মানুষ। তিনি যে সহিষ্ণুতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী সেটা বড়লেখাবাসী কারো অজানা নয়। এই গুণীজন আমাদের বড়লেখার সম্পদ। যদি এমন শর্ত রাজনীতিতে জুড়ে দেওয়া হতো যে, শুধু বক্তিতাবাজি নয়, বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া কেউ জনপ্রতিনিধিত্ব করতে পারবেনা। তাহলে সিরাজ উদ্দিনের বিকল্প খোঁজে পাওয়া দূস্কর হতো।


আমি তাঁর গুনের অনেক প্রমান পেয়েছি তাঁর সাথে পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদরাসার শিক্ষার মান উন্নয়নের কাজে। একজন সভাপতি হিসেবে তিনি নিরলসভাবে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং আজথাক করে যাচ্ছেন। জনাব সিরাজ উদ্দিনের বিচক্ষনতার জন্য আমার মনে হয় উনার মতো রাজনীতিবিদরা জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন। অনেকেই মনে করছেন, উপজেলাজুড়ে মুক্তিযুদ্ধাগন, তাঁদের পরিবার এমনকি অসংখ্য সুহৃদ, শুভাকাঙ্কি সহ সিরাজ ভাইয়ের রয়েছে নীরব ভোট ব্যাংক।


বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব রফিকুল ইসলাম সুন্দর আমার বিবেচনায় একজন শিক্ষিত, যোগ্য এবং ব্যক্তিত্ববান ভাল মানুষ। রাজনৈতিকভাবে তিনি অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। সে হিসেবে একটা বড় প্রত্যাশাও রয়েছে তাঁর। দল ও দলের বাইরেও তাঁর রয়েছে ইমেজ। তাছাড়া বর্তমানে রানিং চেয়ারম্যান হিশেবে তাঁর কর্মকৃতিত্বও তাঁকে সহায়কশক্তি প্রদান করবে বলে মনে করছেন অনেকেই।


তবে শেষ বিচারে এই তিনজনের মধ্যে কে হচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান সেটা সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়াই উত্তম। জনগনই তাঁদের অভিভাবক বেঁছে নেবে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।
বিঃ দ্র: আমার এই লেখা নিয়ে হয়ত কিছু মহলের বাঁকা মন্তব্য আসতে পারে। সেজন্য আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনদিন কোন রাজনৈতিক দলের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলাম না। পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা ও নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সেই সুবাদে অনেক রাজনৈতিক দলের সাথে এবং ইসলামি ভাবধারার একটি দৈনিকে কাজ করার সুবাধে অনেক ইসলামী ব্যক্তিত্বের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং উঠাবসা আছে।


এর অর্থ এই নয় যে আমি কোন সংগঠনের নেতা। অনেকেই ভুল ধারনা নিয়ে থাকেন এবং বিভিন্ন সময় জনমনে এমনকি প্রশাসনকেও ভুল বার্তা দেন। যা একজন নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার এবং সাংবাদিক হিসেবে আমার অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমি বিগত জাতীয় নির্বাচনে একেবারে নিষ্কৃয় ছিলাম। উপজেলা নির্বাচন একটি আঞ্চলিক বিষয়। বিধায় এ বিষয়ে আমার আগ্রহ রয়েছে। আর সেই আগ্রহ থেকেই এই লেখা। পরিশেষে সবার সুস্থ্য ও সুন্দর জীবন কামনা করছি। সকল প্রার্থী, তাঁদের অনুসারী ও ভোটারদের জন্য শুভ কামনা। গনতান্ত্রিকপন্থা অনুসরণ করে আমরা সুস্থ্যধারার রাজনীতি প্রবর্তণে সহায়ক হই।

লেখক: সাংবাদিক ও নিকাহ রেজিস্ট্রার।

১০ মার্চ ২০১৯ ইংরেজি









 

Developed by :