Monday, 26 September, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




সৌম্য-মাহমুদউল্লাহর রেকর্ড সেঞ্চুরি, তবুও ইনিংস হার

শতরানে রাঙালেন সৌম্য সরকার

বিয়ানীবাজারবার্তা ডেস্ক।।

দুজনেই জানতেন কি কঠিন সময় অপেক্ষা করছে তাদের সামনে, দলের সামনে এই টেস্টে। কিন্তু সামনের সেই সঙ্কট তাদের থামিয়ে-দমিয়ে রাখতে পারলো না। দুজনেই খেললেন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। করলেন সেঞ্চুরি। স্মরণীয় সেঞ্চুরি।

তবে তাদের সেই সেঞ্চুরি সত্ত্বে হ্যামিল্টনে ইনিংস হার এড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। কিন্তু ইনিংস ও ৫২ রানে ম্যাচ হারার আগে বাংলাদেশ ঠিকই লড়লো। করলো ৪২৯ রান।

 



দলের এই ৪২৯ রানের মধ্যে সৌম্য করলেন ১৪৯ রান। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট হাসলো ১৪৬ রানে। দুজনের সেঞ্চুরিই আবার রেকর্ডে ভাস্বর। মাত্র ৯৪ বলে সেঞ্চুরি পেলেন সৌম্য। টেস্টে এটি বাংলাদেশের হয়ে দ্রততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। সৌম্য এখন এই রেকর্ডটি ভাগাভাগি করছেন তামিম ইকবালের সঙ্গে।

 



আর মাহমুদউল্লাহর জন্য তো বিশ্বের সবচেয়ে পয়মন্ত মাঠ হলো হ্যামিল্টন। টেস্টে নিজের সর্বোচ্চ রান পেলেন মাহমুদউল্লাহ এই মাঠে। দুটি টেস্ট খেলেছেন এই ভেন্যুতে। দুটিতেই সেঞ্চুরি। একটি ওয়ানডে খেলেছেন। তাতেও সেঞ্চুরি!

 



এই দুজনের বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি সত্তে¡ও বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানেই হারলো। তবে এই দুইয়ের বড় সেঞ্চুরিে যা জানান দিলো তার নাম লড়াই! লড়তে জানা। সৌম্য-মাহমুদউল্লার রেকর্ড সেঞ্চুরিতে হ্যামিল্টন টেস্টের চতুর্থদিন পাওয়া গেলো লড়াকু মেজাজের ভিন্ন ব্যাটিংয়ের বাংলাদেশকে। তিন ম্যাচের সিরিজে ০-১ এ পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের বড় অর্জন সেটাই।

 



ম্যাচ বাঁচলো না কিন্তু সৌম্য ও মাহমুদউল্লাহর সেঞ্চুরি এই টেস্টে বাংলাদেশকে এনে দিলো লড়াইয়ের তেজ।

 



চা বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ছিলো ৮ উইকেটে ৪২৪ রান। তখনো ইনিংস হার বাঁচাতে চাই ৫৭ রান। মাহমুদল্লাহ রিয়াদ লড়ছিলেন ১৪১ রান নিয়ে। চা বিরতির পর মাহমুদউল্লাহ ১৪৬ রান করে টিম সাউদির বলে আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংস টিকলো আর মাত্র চার বল!

 



চতুর্থদিনের সকালের সেশন থেকেই ব্যাটিংয়ের মেজাজ বদলে ফেলে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার পাল্টা আক্রমণকে টিকেই থাকার সেরা অস্ত্র হিসেবে বেছে নেন। শুরু করেন ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং। আগের দিনের ৩৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা সৌম্য দ্রæতই হাফসেঞ্চুরিতে পৌছে যান। সেঞ্চুরিতে পৌছাতেও বেশি সময় নিলেন না। নিউজিল্যান্ডের বাউন্সার, শর্ট বল মোকাবেলায় দারুণ দক্ষতা দেখান। মাত্র ৯৪ বলে টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিলেন সৌম্য। বলের হিসেবে টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্রæততম সেঞ্চুরি। যে রেকর্ডটি এতদিন ছিলো শুধুই তামিম ইকবালের। এখন তাতে সৌম্যের ভাগ।

 



৬০ বলে হাফসেঞ্চুরি পান সৌম্য। পরের ফিফটি আসে তার মাত্র ৩৪ বলে! ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন দারুণ বীরত্বপূর্ণ কায়দায়। মাত্র ৯৪ বলে ১২ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় সেঞ্চুরি পুরো তার।

 



এদিকে সৌম্যের সেঞ্চুরি আর অন্যপ্রান্তে মাহমুদউল্লাহর হাফসেঞ্চুরি পুরো। স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের সঞ্চয় বাড়ছে।

 



সেঞ্চুরির পর সৌম্য সরকার তার ব্যাটিং কৌশল বদলে ফেললেন। কোন ঝুঁিক নেয়ার পথে গেলেন না। ধৈর্য্য নিয়ে সামনে বাড়লেন। সৌম্যের সেঞ্চুরি মাহমুদউল্লাহও সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। ১৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ১৮৩ বলে তার সেঞ্চুরির জন্য একটা শব্দই ফুটে বেরুলো-ক্যাপ্টেনস নক! মাহমুদউল্লাহও সেঞ্চুরির পর আরো অনেক দুর যেতে হবে এই চিন্তায় মনোনিবেশ করলেন।

 



সৌম্য-মাহমুদউল্লাহর পঞ্চম উইকেট জুটিতে পেলো বাংলাদেশ ২৩৫ রান। ১৪৯ রান করে সৌম্য সরকার ফিরে আসার পর লিটন দাস ও মেহেদি মিরাজ এই ম্যাচে দ্বিতীয় দফা ব্যাটিংয়ের ব্যর্থ। লিটন দাস বাইরের বল টেনে এনে বোল্ড হলেন। আর মিরাজ হয়তো ভেবেছিলেন এটাই খেলার শেষ বল, ছক্কা না হলে যেন হয় না! হুক শটে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে উইকেট খোয়ালেন।

 



চা বিরতির খানিকবাদে মাহমুদউল্লাহ ১৪৬ রান করে ফিরে আসার পর সাউদির সেইওভারেই ম্যাচ জিতে নিলো নিউজিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

তৃতীয়দিন শেষে, বাংলাদেশ ১ম ইনি: ২৩৪/১০ (৫৯.২, তামিম ১২৬, সাদমান ২৪, মুমিনুল ১২, মিঠুন ৮, সৌম্য ১, মাহমুদউল্লাহ ২২, লিটন ২৯, মেহেদি ১০, আবু জায়েদ ২, খালেদ ০, এবাদত ০, অতিরিক্ত ০, ওয়াগনার ৫/৪৭, সাউদি ৩/৭৬)।

 



নিউজিল্যান্ড ১ম ইনি: ৭১৫/৬ ডি. (রাভাল ১৩২, লাথাম ১৬১, উইলিয়ামসন ২০০*, নিকোলস ৫৩, ওয়াটলিং ৩১, গ্র্যান্ডহোম ৭৬*, মিরাজ ২/২৪৬, এবাদত ১/১০৭, সৌম্য ২/৬৮)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনি: ৪২৯/১০ (১০৩ ওভারে, তামিম ৭৪, সাদমান ৩৭, মুমিনুল ৮, মিঠুন ০, সৌম্য ১৪৯, মাহমুদউল্লাহ ১৪৬, বোল্ট ৫/১২৩, সাউদি ৩/৯৮, ওয়াগনার ২/১০৪)।

 



ফল:নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ৫২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: কেন উইলিয়ামস।

 







 

Developed by :