Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




কানাইঘাটে সুরমার বুকে সবজির হাট

মাহবুবুর রশিদ, কানাইঘাট।।

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাতটা । সূর্য্যিমামা উঁকি দেওয়ার আগেই সবজি চাষিরা হাজির হয়ে গেছেন কানাইঘাট পূর্ব বাজারের পাশে সুরমা নদীর চরে সবজির হাটে। হালকা শীত,তাই গায়ে চাদর আর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে সবজিভর্তি সারি সারি নৌকা নিয়ে হাজির হয়েছেন এখানে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে চাষিদের উপস্থিতিও বাড়ে। একপর্যায়ে সবজি চাষি,ক্রেতা আর বিক্রেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয় শীতকালীন এ সবজির হাট।



মূলা, শিম, বাঁধাকপি, ওলকপি, টমেটো, লাইশাক, লালশাক, শসা, ঝিংগা, লাউ, সরিষা, মরিচসহ নানা জাতের সবজি নিয়ে আসেন তারা  উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে।

প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সুরমা নদীর চরে বসে এ শীতকালীন সবজির হাট। দূর-দুরান্ত থেকে সবজি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় করেন  হাটে।



কার্যত শীতকালে কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি শুকিয়ে যায়। তখন জেগে উঠে বিশাল চর। খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া নদীর বুকে বছরের এসময়ে বসে শীতকালীন সবজির হাট। তবে এবছর শীতকালীন সবজির হাটকে অনেকটা ভাসমান হাটের মতো মনে হবে।



চারিদিকে পানি, মধ্যখানে জেগে উঠা বিশাল চরে বসেছে সবজির হাট। এই সবজিগুলো উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার  ছাড়াও সিলেটের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তা, গোয়াইনঘাট, এলাকাসহ আরো কয়েকটি উপজেলায় বিক্রি হয়।



সবজির হাটে কথা হয় পৌরসভার বদিকোনা গ্রামের সফল সবজি চাষি সুলেমান এর সঙ্গে। তিনি বলেন, এবছর সবজি চাষ মোটামুটি ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি এ হাটে। আরও কয়েকজন জানলেন,শীতকালীন শাকসবজির ভালো ফলন হয়েছে। তবে তারা নায্য মূল্য পান না।



হাটের ইজারাদার ছায়াদ উদ্দিন বলেন, এই হাট থেকে প্রতিদিন শত শত টন সবজি ট্রাক,পিকআপ ও সিএনজিযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যায়। প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকার সবজি বিক্রি হয় এখানে।

 

 



 


















 










 





Developed by :