Monday, 26 September, 2022 খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |




ছবি চুরিতে জড়িত ২৯ ফটো অ্যাপ সরালো গুগল

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম।। 

স্ক্রিনিং প্রযুক্তির উন্নতি সত্ত্বেও ক্ষতিকারক অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে পেরে উঠছে না গুগল। যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন তাতেই ফাটল ধরাচ্ছিল ছদ্মবেশী অ্যাপ। এসব অ্যাপ স্ক্যাম অ্যাড দেখানোর পাশাপাশি গোপনে ব্যবহারকারীদের ফোন থেকে ছবি চুরি করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় প্ল্যা-স্টোর থেকে ২৯টি ক্যামেরা অ্যাপ সরিয়ে নিয়েছে গুগল।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বাতিল হওয়া এসব অ্যাপের কারণে ফোন আনলক করা মাত্র ব্রাউজারে ফুল স্ক্রিন অ্যাড দেখা যেতো। বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করলে পেইড পর্নোগ্রাফি প্লেয়ার ডাউনলোড হতো। কিন্তু এগুলোতে কোনও কনটেন্ট চালু হতো না। এসব বিজ্ঞাপন দেখানোর পেছনে কোন অ্যাপের হাত আছে তাও সহজে বোঝার উপায় ছিল না। আবার কয়েকটি অ্যাপ ফিশিং ওয়েবসাইটে রিডিরেক্ট করা ছিল, যেখানে ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ঠিকানা বা ফোন নম্বর চাওয়া হতো। অ্যাপগুলো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ লিস্টেও নিজেদের আইকন ঢেকে রাখতো। ফলে অ্যাপগুলো আনইন্সটল করা সম্ভব হতো না।

অ্যাপগুলোর মধ্যে বেশকিছু অ্যাপ কনটেন্টের ছদ্মবেশে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার কিছু কিছু ক্যামেরা অ্যাপ আছে যারা দৃশ্যত ক্যামেরায় তোলা ছবিকে নান্দনিক করার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে আপলোড করা ছবি চুরি করতো।

মূলত, ছবি সুন্দর করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অ্যাপগুলো নির্দিষ্ট সার্ভারে ছবি আপলোড করতে বলতো। পরে ৯টি ভিন্ন ভিন্ন ভাষাসহ এডিট ছাড়াই ছবি পাঠিয়ে দিতো। আর অ্যাপ নির্মাতারা এর মাধ্যমে আপলোড করা ছবিগুলো পেয়ে যেতো।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এ জালিয়াতিতে অ্যাপ নির্মাতারা বেশকিছু সঙ্কুচিত আর্কাইভ ব্যবহার করতো। এ প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষণ প্রতিরোধ এবং রিমোট সার্ভারকে এনক্রিপশনের চাদরে মুড়িয়ে রাখা হতো। এর ফলে পরবর্তীতে ব্যবহারকারীরা ছবি মুছতে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়তেন। অ্যাপগুলো বুট করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পরতো। কেননা স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপ তালিকা থেকে এগুলো লুকিয়ে রাখা হতো। তাই চাইলেই এগুলোকে টেনে এনেও মুছে ফেলা যেতো না। সঙ্গত কারণেই এগুলোর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের কোনও যোগসাজশ আছে কিনা তারও তা নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, ২৯টির মধ্যে ১১টি অ্যাপ ১ লাখ থেকে ১০ লাখেরও বেশিবার ডাউনলোড করা হয়েছে। তিনটি অ্যাপ ডাউনলোড হয়েছে ১০ লাখেরও বেশিবার। আর তাই এই অ্যাপে আক্রান্তের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। সংখ্যাটা উদ্বেগজনক। আর তাই যতক্ষণ না গুগল ক্ষতিকর অ্যাপগুলোকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করতে সক্ষম হবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে।

 

Developed by :