Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




কাঁদছে জলঢাকা, নিহতদের ৭ জন ছিল স্কুলছাত্র

‘মোর বেটা যে বড় হয়্যা অফিসার হবার চাইছিল’

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম।।

লেখাপড়ার খরচ জোগানো আর পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে মাঝেমধ্যেই বাড়ি ছেড়ে অন্য এলাকায় পাড়ি জমাতে হতো স্কুলপড়ূয়া এসব ছাত্রকে। দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ ছিল জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই।

 


তারপরও তারা শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ হতে চেয়েছিল। কিন্তু তা আর হওয়া হলো না। শুক্রবার কুমিল্লার ইটভাটায় তাদের জীবনের আলোই কেড়ে নিল কয়লাবাহী ট্রাক। চিরনিদ্রায় শায়িত হলো তারা।

 


কথা বলছিলেন জলঢাকার মীরগঞ্জহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, তার বিদ্যালয়েই দশম শ্রেণিতে পড়ত পাঁচজন। তারা হলো- অমল চন্দ্র রায়ের ছেলে প্রশান্ত রায় দিপু, মানিক চন্দ্র রায়ের ছেলে তরুণ চন্দ্র রায়, জগদীশ চন্দ্র রায়ের ছেলে মৃণাল চন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ চন্দ্রের ছেলে বিপ্লব চন্দ্র ও জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সেলিম।

 


শিমুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জ্যোতিশ চন্দ্র রায় বলেন, তার বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ত খোকা রাম রায়ের ছেলে বিকাশ রায় ও অমল চন্দ্র রায়ের ছেলে মনোরঞ্জন রায়। তারা অত্যন্ত মেধাবী ছিল।

 


কিন্তু আর্থিক অনটনে থাকায় তারা লেখাপড়ার ফাঁকে অর্থ উপার্জন করে বাবা-মা ও ভাইবোনের পাশে দাঁড়াত। শুধু অর্থের জন্যই আজ এতগুলো তাজা প্রাণ নিভে গেল।

 


নিহত সেলিমের বাবা রিকশাচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মোর মেরুদণ্ডটা ভাঙ্গি গেইল। খালি রিকশা চালেয়া সংসার চলে না। এ্যালা মোর কী হইবে? মোর আগত মোর ছাওয়াটা চলি গেল। মোর বেটা যে বড় হয়্যা অফিসার হবার চাইছিল।’ এভাবেই বিলাপ করছিলেন তিনি।

 


এলাকাবাসী জানায়, এ রকম আরও অনেক ছেলেই আছে, যারা অর্থের অভাবে লেখাপড়ার জন্য শ্রম বিক্রি করে। তাদের নামের তালিকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

 


নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নেব। এরই মধ্যে সরকারিভাবে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 


শুক্রবার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে পড়ে ইটভাটার শ্রমিকদের থাকার ঘরে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ শ্রমিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে নয়জনের বাড়ি মীরগঞ্জ ইউনিয়নে। বাকি চারজন পাশের শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে। নিহত শ্রমিকের মধ্যে সাতজনই ছিল শিক্ষার্থী। -সমকাল

 

 

 


 


















 





Developed by :