Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




বড়লেখায় মাঠে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম, বড়লেখা।।

সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ফের শুরু হচ্ছে ভোটের উত্তাপ। এ উত্তাপ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে। মার্চ মাসে এই নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। দলীয়ভাবে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

 



তবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রীয় বিএনপি। কেন্দ্রের সিন্ধান্তের অপেক্ষায় স্থানীয় বিএনপি। এদিকে পিছিয়ে নেই জামায়াত ইসলামী। তাঁরাও সতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাবেক বড়লেখা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তাঁরাও চেয়ে অছেন জোটের সিদ্ধান্তের দিকে।

 



উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের উপজেলা ও জেলা কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো যোগ্য ও জনপ্রিয়দেরই উপজেলায়ও প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। এমনটি আভাস পাওয়া গেছে বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কথায়।

 



এদিকে জাতীয় নির্বাচনের ডামাঢোল শেষ না হতেই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে একজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও তিনজন নতুন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পিছিয়ে নেই বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানও। ইতিমধ্যে নিজেদের অবস্থান থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তবে নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য তাঁেদর অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

 



সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন

বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর, বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদ, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন ও উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহমদ জুবায়ের লিটন।

 



এই পাঁচ প্রার্থী তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন সার্বক্ষণিক। নিজেদের শক্ত বলয় গড়তে নিচ্ছেন নানা কৌশল। যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি।

উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এর আগে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ছিলেন জেলা যুবলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটে প্রার্থী মনোনিত হন। এই নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত ইসলামী সমর্থিত সতন্ত্র প্রার্থী এমাদুল ইসলাম। এবারও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। সে লক্ষ্যে তিনি মাঠে কাজ করছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। যাচ্ছেন তাঁদের বাড়িতে। তাঁর সমর্থকদের আশা তিনি এবারও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

 



বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে তিনি উপজেলা যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও জেলা যুবলীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন। টানা দুইবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান হয়ছেন দুইবার। সামাজিক বিচার সালিশে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির কারণে ন্যায় বিচারক হিসেবে দল-মতের উর্ধ্বে সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। তরুণরাও তাঁর প্রতি আন্তরিক। ৮৯ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা করা এই নেতা এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। সে লক্ষ্যে কাজ করছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর ভালো যোগাযোগ। সমর্থকদের প্রত্যাশা তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

 



উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। তিনিও এবার দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়ন পাবার আশায় তিনি মাঠে কাজ করছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। তাঁর মনোনয়ন পাবার বিষয়ে সমর্থকেরাও আশাবাদী।

 



উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন। এর আগে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৭-৭৯ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৭৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই নেতাও দলের মনোনয়ন চাইবেন। এমনটি আভাস পাওয়া গেছে তাঁর কথা থেকে। দীর্ঘদিন তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

 



উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত এই চেয়ারম্যান এক সময় শিক্ষকতা করতেন। এলাকায় রয়েছে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি উঠছে স্থানীয়ভাবে। তিনি মনোনয়ন পাবেন এই প্রত্যাশা তাঁর সমর্থকদের।

 



এই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন বলেন, ‘এইবার আমিও মনোনয়ন চাইব। দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক প্রার্থী মনোনিত করা হবে। দলের তৃণমূলের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে তিনজনের একটি তালিকা উপজেলা ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কেন্দ্র থেকে নেত্রী চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনিত করবেন। কেন্দ্র যাকে মনোনিত করবে আমরা থাকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’


















 





Developed by :