Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




‘নিজের মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর’

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম, বড়লেখা।।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশে রূপান্তর করতে চান। তাই আমি গণসংবর্ধনা সভা থেকে ঘোষণা দিচ্ছি। আমার ওপর যে অর্পিত দায়িত্ব। যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমার প্রথমকাজ হবে মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করা। তাই আমি সকলের সহযোগিতা চাই।’

 

 



তিনি বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পৌর শহরের আহমদ ম্যানশনের সম্মুখে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন।

 

 



মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ প্রতিবছর বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস যেসব কারণে হয় তাঁর একমাত্র কারণ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব। তাই আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। তার পিছনে কারণ আমরা বন উজাড় করে দিয়েছি। খাল-বিল এইগুলোকে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও এইগুলো অবৈধ দখল করা হয়েছে। যার ফলে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটেছে। এই বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হলে, দেশের মানুষের ফসল, জানমাল রক্ষা করতে হলে এই মন্ত্রণালকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। দেশের পাহাড় রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশের যত পাহাড় আছে সেগুলোতে যাতে বৃক্ষ নিধন না হয়। গাছ চুরি যাতে বন্ধ হয়। সেই ব্যবস্থা আমরা করব।’

 

 



আমাদের হাওর-বিল যেগুলো ভরাট হয়ে গেছে সেইগুলো আমরা যাতে আবার খনন করতে পারি। যাতে প্রতিবছর বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাসে মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়।

 

 



মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ইট ভাটাগুলো নিয়মকানুন না মেনে চলায় পরিবেশের বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে ইটভাটাগুলোকে নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা। আগামী ৩০ জানুয়ারি সংসদ অধিবেশেন শুরু হবে। আমরা সংসদে বিল নিয়ে আসব। যাতে ইটভাটাগুলো পরিবেশের জন্য যাতে ক্ষতিকর না হয়। ইটভাটার কারণে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়। সে আইন আমরা বাংলাদেশে চালু করব।’

 

 



তাছাড়া ইকো-ট্যুরিজমের আওতায় বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড় ও হাকালুকি হাওরকে নিয়ে এসে মানুষের কাছে দৃষ্টিনন্দন হিসেবে তুলে ধরার কাজ করব। এইগুলোকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে।’

 

 



সংবর্ধনা সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ডা. প্রণয় কুমার দের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তাজ উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় সংবর্ধিত প্রধান অতিথি মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি ছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন,বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলাহ্র সভাপতি কেএম ছালেহ আহমদ কবির।

 

 



এর আগে মন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জনসভাস্থলে এসে পৌঁছালে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এদিন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সড়ক পথে সিলেট থেকে বড়লেখা এসে পৌঁছালে উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড-অব অনার প্রদান করা হয়। বিকেলে সিলেট থেকে বড়লেখা আসার সময় পথে পথে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন।

 

 



বুধবার পৌনে ১২টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

 

 



এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল খালিক, মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাউর, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আজহার উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক জুবের আহমদ, সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সাবেক ছাত্রনেতা বেলাল খান, এম এইচ ইলিয়াছ দিনার, আব্দুল আলিম তুষার, বদরুল হোসেন, ফয়ছল আহমদ তাপাদার, শাওন আলম প্রমুখ।

 

 



সেখান থেকে তিনি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রা.), পরে শাহপরান (রা.) মাজার জিয়ারত করেন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ১টা ৪০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউসে যান। সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে দুপুর আড়াইটায় নির্বাচনী এলাকা বড়লেখার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

 

 



 

 



 

 



 





Developed by :