Tuesday, 18 June, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




ভোটের দিন ৯৯৯ কল ৩০ হাজার

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম ডেস্ক: জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ইতোমধ্যেই নাগরিকদের নানা বিপদে সহায়তার হাত বাড়িয়ে সাড়া ফেলেছে। এ সেবা চালু হওয়ার পর অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৯৯৯ নম্বরে সারাদেশ থেকে কল এসেছে ৩০ হাজার ৯০৬টি। যার প্রতিটি কলেই সাড়া দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। আর সরাসরি মাঠ পর্যায়ে জরুরি সেবা প্রদান করেছেন ৯৯৮টি কলে।

পুলিশের টেলিকম অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্টের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার কল আসে ৯৯৯ নম্বরে। এর মধ্যে পুলিশ সামর্থ্য অনুযায়ী সাড়া দিতে চেষ্টা করে। তবে সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে ২৮ ডিসেম্বর থেকে কলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২৮ ডিসেম্বর ১৬ হাজার ও ২৯ ডিসেম্বর ৯৯৯ নম্বরে মোট ১৭ হাজার কল আসে। তবে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নির্বাচনের দিন কল আসে ৩০ হাজার ৯০৬টি।

এসব কলের বেশির ভাগই ছিল আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া গুজব সংক্রান্ত খবর যাচাই করতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কল পান ৯৯৯ নম্বরের এর অপারেটররা। এর মধ্যে ইনকোয়ারি (জিজ্ঞাসা) কল ছিল ১০ হাজার ৩৬১টি, ব্ল্যাংক কল (টেকনিক্যাল কারণে কথা শোনা যায় না) ছিল ১১ হাজার ৯৮১টি ও ক্রাইম (অপরাধ) কল ছিল এক হাজার ৯০৬টি।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, হঠাৎ করে একদিনে এত কল আসায় পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ৯৯৯ কর্মীদের। প্রতিদিন যেখানে ৮০ জন কর্মী স্বাভাবিক পরিস্থিতি সামলান সেখানে নির্বাচনের দিন ১৭০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন ৩০ হাজার ৯০৬টি কলের মধ্যে ৯৯৮টিতে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ। মাঠ পর্যায়ে সেবাগুলোর মধ্যে ৭৭০টি পুলিশি সেবা, ১০৬টি ফায়ার সার্ভিস সেবা ও ১২২টি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করা হয়। স্বাভাবিক সময়ে এ সেবাগুলোর পরিসংখ্যান থাকে অনেক কম। গড়ে প্রতিদিন পুলিশি সেবা ৯০ থেকে ১০০টি, ফায়ার সার্ভিসের সেবাসংখ্যা থাকে ৯টির মতো।

৯৯৯-এর এক কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের দিন দুপুরের দিকে রাজধানীর মুগদা থেকে সজিব খান (ছদ্মনাম) নামে এক ব্যক্তি ফোন করে জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার পরিচিত একজন ফোনে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে পরিবারসহ হত্যা করা হবে। এই তথ্য সঠিক কিনা। পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে ওই কলারকে জানানো হয়, খবরটি সঠিক নয়, এটি গুজব। একই দিন আরেকজন কলার ঢাকার উত্তরা থেকে জানান, তিনি ফেসবুকের একটি পোস্টে দেখেছেন পটুয়াখালীতে নির্বাচনী পোস্টার পোড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে সেটি তিনি জানতে চান। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারি খবরটি সঠিক নয়। তাই বিভ্রান্তি না ছড়ানোর অনুরোধ করা হয় ওই কলারকে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ তোবারক উল্লাহ বলেন, নির্বাচনের দিন অনেকেই বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে সেটি সঠিক কিনা জানতে চেয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়েও কল এসেছে। আমরা সব কল গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

 





Developed by :