Thursday, 22 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




সিলেট-২ আসনে মহাসমস্যায় এহিয়া

প্রনঞ্জয় বৈদ্য অপু, বিশ্বনাথ:: নিজ দল জাতীয় পার্টিতে থাকা বিভক্তি ও বিগত ৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাথে চলমান দূরত্বের কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) মহাজোটের প্রার্থী হয়েও মহাবিপাকে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া।

এমনকি নির্বাচনের আর মাত্র ৭দিন বাকী থাকলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী আসনে স্থাপন করা হয়নি মহাজোট প্রার্থী এহিয়া চৌধুরীর কোন নির্বাচনী কার্যালয়। প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও নির্বাচনী মাঠে তিনি রয়েছেন অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন। নির্বাচনী মাঠের পরিবর্তে মহাজোট প্রার্থী এহিয়া চৌধুরী আদালতেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। এদিকে নির্বাচনী পোস্টার-লিফলেট-ব্যানারে জাপা প্রধানের ছবির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করেও আলোচনায় আসার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বাড়িতে গিয়ে তার (ইলিয়াস) মা ও স্ত্রীর সাথে দেখা করেন। এসময় আগামীর পথচলায় ইলিয়াসের মা ও স্ত্রীর দোয়া ও সহযোগীতা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এহিয়া চৌধুরী ‘নায়ক’ হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে ‘খলনায়কে’ পরিণত হন। পরবর্তিতে এলাকার উন্নয়ন বাস্তবায়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে মত পার্থক্য সৃষ্টি হওয়ার ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ একটি বড় অংশের নেতৃবৃন্দের সাথে দূরত্ব বাড়ে এহিয়া চৌধুরী। যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে। আবার আওয়ামী লীগের যে অংশের সাথে এহিয়া চৌধুরীর সু-সম্পর্ক ছিলো একাদশ নির্বাচনে সেই অংশের একজন নেতা স্বতন্ত্রী প্রার্থী হওয়ায় বর্তমানে তাদের সাথেও তার (এহিয়া) দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে দোয়া ও সহযোগীতা নিয়ে নায়ক হওয়া ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে একাদশ নির্বাচনে এসে খলনায়কে পরিণত হন। কারণ আদালতে এহিয়া চৌধুরীর করা রিটের প্রেক্ষিতে প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনার। জোটগত নির্বাচনের কারণে ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া মহাজোটের মনোনয়ন পেয়ে প্রথমে সিলেট-২ আসন থেকে আউট করেছেন ‘নৌকা’কে এবং পরবর্তিতে হাইকোর্টে রিট করে আউট করেছেন ‘ধান’কে।

আওয়ামী লীগের সাথে দূরত্ব থাকার পরও এসবকিছু ছাপিয়ে সিলেট-২ আসনে পর পর দুবার লাঙ্গল প্রতিকে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়ার মনোনয়ন পাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাই নির্বাচনী আসনের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ঘরনার দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান ও অধ্যক্ষ ডক্টর এনামুল হক সরদারের মধ্যে কাউকে না কাউকে নিজেদের পছন্দের তালিকায় স্থান দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আবার আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কিছু কিছু নেতা আবার রয়েছেন এহিয়া চৌধুরীর পক্ষেও।

অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার উদেশ্যে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নিজ দলের নেতাকর্মী তথা মহাজোটের নেতাকর্মীদের সাথে এহিয়া চৌধুরী কোন প্রকারের যোগাযোগ করেননি এবং বিগত ৫ বছর অনেক এলাকায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করেননি এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টিতেও দেখা দিয়েছে বিভক্তি। যে কারণে জাপার একটি অংশ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে নিজ দলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের নেতাকর্মীদের চাপে বর্তমান সময়ে মহাজোট প্রার্থী ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া রয়েছেন মহাবিপাকে।

৩০ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ নির্বাচনী আসনের ১৬টি ইউনিয়নের ১৪৪টি ওয়ার্ডের ২ লাখ ৮৬ হাজার ৪০৩ জন ভোটার নিজেদের ভোট প্রয়োগ করে নির্বাচিত করবেন আগামী দিনের সংসদ সদস্যকে। দুই উপজেলার মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮১ জন ও মহিলা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৫২ জন। এখন দেখার বিষয় নির্বাচনী আসনের ১২৭টি ভোট কেন্দ্রের ৬১৪টি ভোট কক্ষে নিজেদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতাকারী ৯ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে কাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত করেন ভোটাররা।

 

Developed by :