Monday, 23 September, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




সিলেট-৫: মহাজোট-ঐক্যফ্রন্ট দু’চৌধুরীতে নির্ভার, আশাহত হুইপ সেলিম?

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম, সিলেট ।। নির্বাচনী মাঠে নামছেন বাংলাদেশে আনজুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে তাকে ভোটের লড়াইয়ে দেখা যেতে পারে। এমন তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা।

এদিকে মহাজোটে হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুুুুলতলী ও ঐক্যফ্রন্ট এ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এমনটি হলে এ আসনের এমপি ও বিরোধীদলীয় হুইপ আলহাজ মো. সেলিম উদ্দিনের কপাল পুড়তে পারে।

জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ ও মহাসচিব রুহুল হাওলাদারের সাথে তার সম্পর্কের অবনতির কারণে হয়তো এরশাদ এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান সাবেক ফাস্ট লেডি রওশন এরশাদ অনুসারী।

এদিকে হুছাম উদ্দিন চৌধুরী ফুুুুলতলী অনুুুসারীরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মাওলানা হুছাম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে এ নিয়ে কয়েকদফা কথা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের গুডবুকে থাকা আল ইসলাহ’র এই শীর্ষ নেতা প্রথমে নির্বাচনে অংশ নিতে অনিহা প্রকাশ করলেও পরে সম্মতি জানিয়েছেন। দু’একদিনের মধ্যেই লন্ডন থেকে তাঁর দেশে ফেরারর কথা রয়েছে।

যদিও বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রকাশ পায়নি। তবে, হুছাম উদ্দিন চৌধুরী দেশে ফেরা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে তাঁর সংগঠন আনজুমানে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়া ওয়াকিবহাল বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এর সত্যতাও স্বীকার করেছেন উভয় সংগঠনের কয়েক নেতা। তারা জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন হুছাম উদ্দিন চৌধুরী বা আল ইসলাহর অংশ গ্রহণে কোনো সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে হয়নি। শেষ পর্যন্ত হুছাম উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তিনি লাঙ্গল প্রতিক চাইতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের এক সদস্য জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁর উপস্থিতিতেই জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে হুছাম উদ্দিন চৌধুরীর। ওই বৈঠকেই তাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে এরশাদ এ নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীও তাতে সম্মতি দেন। এরপরই হুছাম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় এবং তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে দেশেও ফিরছেন।

উল্লেখ্য, দল এবং জোট-মহাজোটের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের আশায় এ আসনে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ঊনিশ নেতা। আছেন জামাতের এক প্রার্থী। তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদ্স্য রয়েছেন তিনজন।

মনোনয়ন প্রত্যাশিরা হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার,  জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুক উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আহমদ আল কবীর, এডভোকেট মোস্তাক আহমদ, মহানগর কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল মোমিন চৌধুরী, ঢাকার রমনা-শাহবাগ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল মুনির চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ রাজ। জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন, জাপার কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাব্বির আহমদ, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ, এম জাকির হোসেইন ও এম এ মতিন চৌধুরী, বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জকিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইকবাল আহমদ তাপাদার, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শরিফ আহমদ লস্কর, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আরব আমিরাত বিএনপির সভাপতি জাকির হোসাইন, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান ও কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

আর জামায়াতের একক প্রার্থী হয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও সাবেক এমপি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

 





Developed by :