Tuesday, 20 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




‘আমি নির্বাচন করলে আমার এলাকায় আসনটি কনফার্ম’

বিয়ানীবাজারবার্তা২৪.কম

‘আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট কনফার্ম বলতে পারি, নেত্রী যদি আওয়ামীলীগ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমার এলাকা থেকে সেই সিটটি কনফার্ম। এটা আমি শতভাগ নিশ্চিত’-এভাবেই আত্মবিশ্বাসের ভঙ্গিতে আগামি নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কে কথাগুলো বলছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মিঞা ভাই খ্যাত অভিনেতা ফারুক।

বুধবার সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ‘লাঠিয়াল’ খ্যাত এই অভিনেতা। তখনও তিনি গাড়িতে। গিয়েছিলেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেখানে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত ছিলেন তিনি। তার হাত দিয়েই দেয়া হয়েছে পুরস্কার।

কথায় কথায় বলছিলেন, আমি প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের সভা সেমিনারে উপস্থিত হচ্ছি। এতে আমার একটা কাজ হচ্ছে, সেটা হলো তরুণ প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা গড়ার কথা পৌঁছে দিতে পারছি।

এরআগেও আসন্ন একাদশ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন ‘সারেং বউ’ খ্যাত এই অভিনেতা।

আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অভিনেতা জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বহু আগে থেকেই গাজীপুরের কালীগঞ্জে তিনি প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় তার সমান জনপ্রিয়তা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এখন শুধু নেত্রীর সুদৃষ্টি পাওয়ার অপেক্ষায়!

‘ভালোবাসার মানুষ যারা, মানুষের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে তাদের কাজে লাগালে তাহলে সাফল্য নিশ্চিত। কারণ আগামিবারও মানুষের আওয়ামীলীগ সরকারের দরকার। মানুষের উন্নয়নের জন্য, দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই শেখ হাসিনা সরকারকে আগামিবার দরকার। এই স্লোগান সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ভোট লুট করে নয়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসবেন।’-এমনটাই বলছিলেন চিত্রনায়ক ফারুক।

নিজের নির্বাচনি আসন গাজীপুর-৫ তথা কালিগঞ্জ। এখান থেকেই নির্বাচন করতে চান ফারুক। কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আমার বাপ দাদার ভিটা। এখানে চারশো বছর ধরে আমাদের বসবাস।

ঈশা খাঁ, ভাওয়াল এবং পাঠান থেকে আমাদের পরিবার বের হয়ে এসেছে। এখানে আমার দাদা ভাই থেকে শুরু করে প্রায় সবাই পলিটিক্স করতেন, কিন্তু কেউ ক্ষমতা চাইতেন না। আমার বাবাও ছিলেন কিং মেকার।

সত্তুরে যখন বঙ্গবন্ধু লঞ্চ দিয়ে কালিগঞ্জ গিয়েছিলেন, লঞ্চটি যেখানে থামিয়ে ছিলেন সেটা ছিলো আমার বাবার জায়গা। তুমুলিয়া ইউনিয়ন। এখানে বঙ্গবন্ধু বাজারও আছে। যা স্বয়ং বঙ্গবন্ধুই নাম করণ করেছিলেন। তিনি তখন দেশের লিডার। ‘ফাদার অব দ্য নেশন’ হয়ে যেতে পারবেন এটা কেউ তখন ভাবেননি না।

বঙ্গবন্ধুর নামে কালিগঞ্জে জায়গা দলিল করেও দিয়েছেন তার বাবা, এমনটা জানিয়ে ফারুক বলেন, আমার বাবা এমপি না থাকলেও সেসময় সোহরাওয়ার্দী, একে ফজলুল হকের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিলো। সত্তরে যখন বঙ্গবন্ধু আমাদের এখানে নির্বাচনি প্রচারণায় যান তখন বাবা বঙ্গবন্ধুর নামে জায়গা দিয়ে বলেছিলেন, এখানে তোমার স্মৃতি রেখে যাও। বঙ্গবন্ধু তখন তার বক্তৃতায় সেই বাজারটার নাম দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু বাজার। অথচ এই ঘটনাটি আমাদের এলাকার এমপি, মন্ত্রীরা চেপে গিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই ঘটনাটি অতীতে কেউ জানাননি। বঙ্গবন্ধুর দেয়া নামের বাজারটিও আজ বিলীন হওয়ার পথে। এটা ধরে রাখতেও কোনো পদক্ষেপ কেউ নেননি।

বঙ্গবন্ধুর সমস্ত স্বপ্ন ও স্মৃতি টিকিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রতিনিয়ত নানা গল্প তুলে ধরছেন ফারুক। আগামি নির্বাচনে অংশ নিতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ৫৭ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার আদর্শ লালন করে আসছি। আমি আমার এলাকায় নির্বাচন করতে চাই। আমি নির্বাচন করলে ওই আসনটি কনফার্ম হবে। এটা আমি প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিতে পারি।

কালিগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে জানতে চাইলে ফারুক বলেন, নেত্রী যদি আমাকে এই মুহূর্তে বলে তুই কালিগঞ্জে যা, তাহলে এক ঘন্টার মধ্যে সেখানে এক লক্ষ লোক জড়ো হয়ে যাবে। সেখানে যে গ্রহণযোগ্যতা আমার আছে সেটা অনেক বড় ভালোবাসার জায়গা। শুধু কালিগঞ্জ কেন, আমিতো বলতে পারি আমার নিজের এলাকা ছাড়া বাংলাদেশের আর অন্য দশটা জায়গা থেকেও নির্বাচন করলে আমি সফলতা পাবো। মানুষ আমাকে ভালোবাসে, যে পরিমাণ ভালোবাসে এটা কল্পনাও করা যায় না। তবে কালিগঞ্জে নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি কাজ করছি।

স্কুল জীবন থেকেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত লাঠিয়াল খ্যাত অভিনেতা ফারুক। ছয় দফা আন্দোলনের পর মুক্তিযুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করেছেন তিনি।

বর্তমানে অভিনয়ে নিয়মিত না থাকলেও চলচ্চিত্রকে ছেড়ে যাননি বাংলা চলচ্চিত্রের এই অভিনেতা। এফডিসি কেন্দ্রিক ‘চলচ্চিত্র পরিবার’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। -চ্যানেল আই অনলাইন

 

Developed by :