Saturday, 24 August, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




নারী সাংবাদিক বলেই কি অবলীলায় চরিত্রহীন বলে দেয়া?

নাসিমুল শুভ

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে আসা অতিথির কাছ থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসৌজন্যমূলক মন্তব্যের শিকার গণমাধ্যমকর্মী মাসুদা ভাট্টি বলেছেন, ‘আমি নারী বলেই হয়ত তিনি বহুল ব্যবহৃত হাতিয়ার হিসেবে ‘চরিত্রহীন’ শব্দটি বেছে নিয়েছেন। আমার জায়গায় কোন পুরুষ সাংবাদিক হলে হয়তো তিনি তাকে ‘দালাল’ বলতেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রতি তার মনোভাবও পরিস্কার হয়ে গেছে।’

এই আচরণের জন্য তাকে শুধু আমার কাছে নয়, সাংবাদিকসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, বলে মন্তব্য করেন মাসুদা ভাট্টি।মঙ্গলবার রাতে একাত্তর টিভির অনুষ্ঠানে মাসুদা ভাট্টি সামাজিক মাধ্যমের বরাত দিয়ে অনুষ্ঠাতে আসা এক অতিথির সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জবাব দিতে গিয়ে ক্ষিপ্ত ওই অতিথি গণমাধ্যমকর্মী ও লেখক মাসুদা ভাট্টিকে বলেন, “আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি চরিত্রহীন বলে মনে করতে চাই।”

তার এ মন্তব্যের বিষয়ে আজ বুধবার চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানানোর শুরুতেই ওই মন্তব্যকারীর ক্ষমা প্রত্যাশা করেন বলে জানান মাসুদা ভাট্টি।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তাকে এই আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। শুধু আমার কাছেই না, সাংবাদিকসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

সরাসরি সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে অতিথির ওই আচরণকে অপ্রত্যাশিত জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়েছি যে একজন দায়িত্বশীল মানুষ, যিনি একসময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বপালন করেছেন এবং নিজেকে রাজনীতিবিদদের চেয়ে ভালো দাবি করে সুশীল সমাজের একজন বলে দাবি করেন তিনি যদি এভাবে একজন নারীকে, একজন সাংবাদিককে এভাবে অপমান করতে পারেন তাহলে তাদের হাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, রাজনীতি কতটা নিরাপদ? আর সবচাইতে বড় কথা হলো, এভাবে কাউকে নিয়ে বলা যায়! আমি আসলে তা ভাবতে পারি নাই।”

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসম্মানজনক শব্দ ব্যবহারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথমে আমি সহকর্মী ও সাংবাদিক বন্ধুদের আমার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। আশা করি তারাই এর ন্যায্য বিচার দাবি করবেন। এর সুরাহা করতে হবে। এরপরও সুরাহা না হলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।”

সাংবাদিক হিসেবে তাকে করা প্রশ্নের জবাবে ব্যক্তি আক্রমণের শিকার মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন রাখেন, “নারী বলেই কি তিনি চরিত্রহীন বলে দিলেন?”

এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের এক অধ্যাপকের মন্তব্য জানতে চায় চ্যানেল আই অনলাইন।

অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, “টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানের মত বড় পরিসরে তো নয়ই, ব্যক্তি-পারিবারিক পরিসরেও এধরনের ব্যক্তি আক্রমণ ও মর্যাদাহানীর চেষ্টা কাম্য নয়। নারী -পুরুষ যেকারও জন্য কোনো শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভদ্রতা-নম্রতা বজায় রাখাটাই কাম্য। আজকে প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা না বলাই ভালো। এমনকি পারিবারিক জীবনেও না, পাবলিক লাইফে তো নয়ই। এটা বাক্য চয়নের একটি অভ্যাসেরও প্রতিফলন। কিন্তু একটি লাইভ প্রোগ্রামে কথা বলায় আনুষ্ঠানিকতা, পরিমিতিবোধ, সীমাবদ্ধতা থাকা উচিৎ। নারী-পুরুষ সবার বেলাতেই বোধটুকু থাকা দরকার।”

তিনি মনে করেন মর্যাদাহানীর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যক্তি পর্যায়ে কথাবার্তায় আরেকটু লাগাম দেয়া উচিৎ, ভদ্রতা-সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিৎ।

 

Developed by :