Thursday, 14 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




মৌলভীবাজার-২: কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি

বিগত ১৮ বছর ধরে জাতীয় রাজনীতিতে উপেক্ষিত মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া কমলগঞ্জ আংশিক) আসনে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের আধিক্য দেখা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনের নেতাকর্মীরা এখন নির্বাচনমুখী। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচার প্রচারনা, চলছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, আছে মনোনয়নের প্রত্যাশা।

 যদিও বিগত প্রায় দেড় যুগ (১৮ বছর) যাবৎ এই আসনে বিএনপি-আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। বিশাল চা-শ্রমিক ভোট ব্যাংক খ্যাত এই আসনটিতে আওয়ামীলীগ সব সময় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। তবে বিগত অনেক জাতীয় নির্বাচনে ব্যাক্তি ইমেজ দিয়ে সেই ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরিয়েছেন অনেকেই। বর্তমান এমপি আব্দুল মতিনের ব্যক্তি ইমেজ ভাটা পড়ার কারণে আসন্ন একাদশ নির্বাচনে আওয়ামীলীগে মনোনয়ন তালিকায় তাকে নিয়ে হিসেব কষছে না কেউ।

কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। এ আসনে রয়েছে প্রায় ৩ লক্ষাধিক ভোটার। এর মধ্যে ৮০ হাজারের বেশী ভোট চা-শ্রমিকদের।

এই আসনকে ঘিরে মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা। কারন এখানে আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি অথবা জাতীয় পার্টি তিন প্রধান দলেরই জনপ্রিয় নেতারা রয়েছেন ¯্রােতের বাইরে। এদের মধ্যে তৃণমূলে সাবেক ডাকসুর ভিপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের জনপ্রিয়তা এখনো বহাল থাকলেও দলে নিজের অবস্থান ছন্নছাড়া। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারনা চালাচ্ছেন আ.লীগের প্রায় হাফ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এদের মধ্যে সুলতান মনসুরসহ চারজন হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন প্রচারনায় এগিয়ে।

সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর:  প্রভাবশালী এ নেতা ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রিয় সভাপতি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের জন্য সুলতান মনসুরকে মানুষ আজও স্মরণ রেখেছেন। ১/১১ এর প্রেক্ষাপটের পর থেকে তিনি দলে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। দীর্ঘদিন থেকেই রাখা হয়েছে দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বি ত হন তিনি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ব্যানারে অংশ নিতে চান তিনি। নির্বাচনে নৌকা না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকবেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে।

এআসনে সুলতান মনসুরের সব থেকে বড় শক্তি তাঁর নিজস্ব ব্যক্তি ইমেজ। আর এই ব্যক্তি জনপ্রিয়তা অক্ষুন্ন থাকার নেপথ্যে ৯৬ থেকে ২০০১ সময়ে সাংসদ থাকাকালীন স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকা-। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর পূর্বপশ্চিমকে জানান, রাজনীতির প্রয়োজনে নির্বাচন। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নির্বাচন করবো। আ.লীগের দলীয় প্রতীক পাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা আশবাদী এমন প্রশ্নের উত্তরে ডাকসুর সাবেক সাবেক এ ভিপি জানান, সময় বলে দেবে কোন প্রতীকে নির্বাচন করব আর সেটা নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে জানতে পারবেন।

আসম কামরুল: বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও কুলাউড়ার মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা সাবেক এমপি মরহুম আবদুুল জব্বারের ছেলে আসম কামরুল ইসলাম। বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

মরহুম আবদুুল জব্বার ১৯৬৪ সাল থেকে আজীবন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সভাপতি। গণমানুষের ভোটে কুলাউড়া থেকে ১৯৭৯ এবং  সালে এমপি ও ১৯৯০ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গেল বছরে কুলাউড়ার হাকালুকি অ লে দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় দিনরাত অসহায় মানুষের মানুষের পাশে ছিলেন। আসম কামরুলের নেতৃত্বে হাও লের জন্য সরকারি বরাদ্দের শতভাগ দুর্ভোগে শিকার মানুষের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন।

প্রয়াত জনপ্রিয় নেতা সাংসদ আব্দুল জব্বারের পুত্র আসম কামরুল ইসলাম ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতি করে এখন উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব আছেন। কামরুল একাধারে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যানের সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে চান তিনি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসম কামরুল দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে আসম কামরুল ইসলাম পূর্বপশ্চিমকে জানান, ‘আমার পিতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আর্দশের অনুসারী। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। আমিও আমার পিতার ন্যায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবয়ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি’। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইব তবে দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো’।

মনোনয়নের ক্ষেত্রে কতটা আশবাদী জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘গত উপজেলা নির্বাচনে তৃনমূলের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হই। আগামী জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে তৃণমূলের কর্মকা- থেকে  মূল্যায়ন করে এ আসনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন’।

সাংবাদিক কামাল হাসান: সংবাদ জগতের এক বলিষ্ঠ নাম সাংবাদিক কামাল হাসান। সাংবাদিকতা থেকে অবসর নিয়ে জনসেবায় মনোনিবেশ করেছেন তিনি। দৈনিক বাংলাবাজার, দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক মানবজমিন, চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেশ ও প্রবাস থেকে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। বর্তমানে নিজ মাতৃভূমি কুলাউড়ায় জনসেবায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমেছন। মৌলভীবাজার-২ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। ইতিমধ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে শীতার্তদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ ও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনার উন্নয়নের সফলতার জন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করে সাড়া জাগিয়েছেন। অপরদিকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সিলেটের অন্যতম ছাত্র নেতা ছিলেন তিনি।

একাদশ নির্বাচনে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জননেত্রী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন, আমরা তার পক্ষে জনগনের কাছে ভোট চাইব। স্থানীয় জনগনের ইচ্ছায় সুদূর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে এসে সাধারণ মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পর্কে তৃনমূলের মানুষকে অবহিত করছি।

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ আংশিক নির্বাচনী এলাকার জনগন আমাকে সাদরে গ্রহন করেছেন। আশা করছি আগামী নির্বাচনে দল আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে মূল্যায়ন করবে’।

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল: শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিলেটের রাজনীতিতে। তিনি বর্তমানে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড)র পারিচালক। এছাড়াও সিলেটে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ দিন। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে তিনি জোরালো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আগামী নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে এমনটা আশাবাদ ব্যক্ত করে একাদশ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন-‘ নেত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে গিয়ে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত হয়েছে সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে বেগবান করতেই দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করবো’। আগামী নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনের আ.লীগের প্রার্থীকে জয়লাভ করাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :