Tuesday, 15 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




আমাদের সমাজ ব্যবস্থার শেষ ঠিকানা কোথায়? *আল নোমান*

আল নোমান

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কোথায় যাচ্ছে? কোথায় এর শেষ ঠিকানা? আগে যেখানে সবাই মিলেমিশে এক সাথে থাকতো। কিন্তু এখন সবখানে অশান্তি বিরাজমান। লক্ষ করে দেখবেন আগে যেখানে একটি নোমানগ্রামের একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠত সেখানে এখন পাড়ায় পাড়ায় সংগঠন গড়ে উঠছে এমনও আছে কয়েকটি পরিবার মিলেও সংগঠনের জন্ম নিচ্ছে, এর মানে কি আমরা এখন একত্রিত থাকতে পারছি না। সমাজকর্মী আবু আহমেদ সাহেদ ভাইয়ের কথায় ‘কমিটি কমিটি খেলা’। কে কতটা কমিটিতে থাকতে পারলেন এই হলো আসল কথা। বিয়ানীবাজারেও ব্যাঙের ছাতার মত সংগঠন গড়ে উঠছে কিন্তা সে রকম কি কাজ হচ্ছে। ব্যাঙের ছাতার যেমন স্থায়িত্ব নেই তেমনি এই কমিটিগুলোরও কোন স্থায়িত্ব নেই।

সংগঠনের নাম কিন্তু অসাধারণ। কিভাবে বুঝবেন একটি সংগঠনের জন্ম হয়েছে এর জন্য আপনাকে কোন কষ্ট করতে হবে না। আপনাদের অবগতির জন্য উনারাই জানিয়ে দিবেন শহিদ টিল্লা থেকে ষ্টেডিয়াম পর্যন্ত উনারাই বাইকের হরণ বাজিয়া বুঝিয়ে দেবেন উনাদের আগমন। কাজের মাধ্যমে এখন সংগঠনের বড়ত্ব বুঝবেন না। যার বাইক যত বেশি তার সংগঠন তত বড়। এ বক্তব্য শোনলাম এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে। “ভাই আজ দেখছেন কতটা বাইক নিয়া র‌্যালি দিছি।” এক মাস পর বললাম কি কি কাজ করলা এই মাসে? উত্তরে- না ভাই সামনে আরেকটা বড় র‌্যালি দেব আগের থেকে অনেক বড়। এই হল উনাদের সংগঠনের কাজ।

পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ গড়ে উঠছে একজন মুসলমান হিসেবে তা আমার কাছে খুবই আনন্দের খবর। কিন্তু নতুন মসজিদেতো মুসল্লি থাকতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় সামনের সারিই পূরণ হয় না। পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিল করানো হচ্ছে যেখানে লোক সংখ্যা অতি নগন্য। উদ্দেশ্য একটাই অন্য এলাকার মাহফিল থেকে আমাদের মাহফিল বড় হবে এবং কিভাবে ওয়াজ কমিটির সভাপতি হওয়া যায় তা নিয়ে প্রায়ই দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এমনকি এখন ওয়াজের মানের চেয়ে বক্তার সম্মানী ও ডিগ্রিটাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। জানেন তো লোক দেখানো কিছুই সফল হয় না আপনার নিয়ত এবং উদ্দেশ্য ভালো হতে হবে তবেই কাজে সফল হবেন।

এখন আসি আমার কথায় আমি যে জন্য উদ্বিগ্ন, এসব সংগঠনের জন্ম হচ্ছে কিন্তু হিংসা থেকেই। সবার সাথে এক হয়ে থাকতে পারছে না বিধায় নিজের পাড়ায় নামমাত্র কিছু লোক নিয়ে সংগঠন করা হচ্ছে। এইতো কিছুদিন আগের কথা গুলশান, বনানী বাংলাদেশের সবচেয়ে ভদ্র এলাকা বলে পরিচিত। সেখানকার দুটি সংগঠন তুচ্ছ গঠনাকে কের্ন্দ্র করে একটি শিশুর প্রাণ গেল। খুন হওয়ার আগ পর্যন্ত এগুলো সংগঠন ছিল পরে রুপ নিল গেংস্টার নামে। আমাদের বেলায়ও যে এর ব্যতিক্রম হবে না তার নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারবে? একবারে হচ্ছে না বললেও ভুল হবে দেখবেন প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্ত্র-সাজ্জিত হয় এবং কাউকে না কাউকে রক্তে রঞ্জিত হতে হয়।

আবার দেখবেন ভদ্রতার মুখোশ পড়ে থাকা মহারতীরাই থাকেন এসব সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদে।
তাই এখনও অনেক সময় আছে সবাই একত্রিত হয় কিছু করার সেখানে আপনার নাম হয়তোবা হেড লাইনে আসবে না তবে আপনার গ্রাম বা উপজেলা দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্ববাসির কাছে পরিচিতি লাভ করবে। তখনই পাবেন মনের আসল তৃপ্তি।

আবার কিছু সংগঠন গড়ে উঠে ব্যক্তিস্বার্থে। নির্বাচন আসলেই উনার লোকবলের প্রয়োজন হয় তাই কিছু টিনেজারদের একত্রিত করলেই কাজটা সহজ হয়ে যায়। এই সব ব্যক্তিদের কাছ থেকেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।

আমরা মানব জাতি আমাদের ধর্মই হল সংগঠিত হয়ে থাকা, এর মানে এই নয় যে সংগঠিত হয়ে কারো ক্ষতি করা, কারো উপর আক্রমণ করা, বাইকের ঝনঝনানি সবাইকে শুনানো, শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলা।

আমাদের জাগ্রত বিবেককে কাজে লাগাতে হবে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে কিভাবে বদলে দেওয়া যায় সে দিকে অগ্রসর হয়ে এক হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে বদলে যাবো আমি, আমরা এবং আমাদের সমাজ।

লেখক: বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ কর্মী।

আরও পড়ুন

প্রতিক্রিয়া: বিয়ানীবাজারে উন্নয়ন হচ্ছে, তবে…? *আল নোমান*

 

 

Developed by :