Wednesday, 16 October, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




প্রতিক্রিয়া: বিয়ানীবাজারে উন্নয়ন হচ্ছে, তবে…? *আল নোমান*

67

আল নোমান

আজ এক বন্ধুর দোকানে বসে গল্প করছিলাম, হঠাৎ একলোক দোকানে আসলেন এবং কথা প্রসঙ্গে বললেন- ভাই মাইক্রোবাসে ঘুমিয়ে আসছিলাম যখন বাসে ঝাকুনি শুরু হয়েছে তখন বুঝে নিলাম বিয়ানীবাজারে চলে এসেছি। এই কথা উনার কাছে শোনার পর খুব লজ্জিত হলাম। আমাদের মন্ত্রী বিশ্ববাসীর কাছে প্রসংশিত উনার কারণে আজ আমরা গর্বিত উনি যথেষ্ট উন্নয়নও করেছেন। কিন্তু আমরা কি তা ধরে রাখতে পেরেছি?

69

পৌরশহরের উত্তর বাজার থেকে দক্ষিন বাজার, কলেজ রোডের কথাটা চিন্তা করেন। মধ্যবাজারে কাচা বাজার আর মাছের বাজারের জন্য জ্যাম লেগেই থাকে প্রতিনিয়ত। প্রথম প্রথম সহ্য করে নিতাম এটাতো মাত্র কয়েকদিনের জন্য কিন্তু এখন দেখি এটাও স্থায়ী হয়ে গেছে। বাজারের মধ্যমণি এই জায়গাটা যেন আবর্জনার স্তুপ হয়ে গেছে । ভাবতে কষ্ট হয় এটা কি আমাদের প্রধান সড়ক?

কলেজের রাস্তায় পিচ বা ঢালাই আছে কি-না, যারা প্রতিদিন যাওয়া আসা করেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। আরেকটা বিষয় খুব হাসি পায় রাস্তার সাথে ড্রেনগুলা দেখে। রাস্তা থেকে ড্রেনগুলা অনেক উপরে যার জন্য পানি রাস্তায়ই জমে থাকে।

আরেকটি বিষয় লক্ষ করে দেখবেন- সিএনজি চালকদের যেন নির্দিষ্ট কোন স্ট্যান্ড নেই। সমস্ত বাজারই তাদের স্ট্যান্ড। তারাই আবার ব্রাটারি চালিত রিক্সা নিয়ে আন্দোলন করেন। আগে নিজেরা টিক হন তার পর ন্যায্য অধিকার নিয়ে আন্দোলন করলে জনগণ সাথে পাবেন।

68

এইতো মাত্র কিছুদিন আগের কথা রাস্তার পাশে অনেকের দোকান কোঠা ছিল যা থেকে অনেক পরিবার দিন চলতো। রাস্তা বড় করার জন্য দু’পাশের দোকান কোঠা ভাঙ্গা হলো রাস্তা বড়ও হলো কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আমরা সেই পুরাতন রূপে ফিরে এলাম। বরং আগেরচেয়ে আরো ভয়ংকর রূপ নিলো আমাদের বিয়ানীবাজার। এ যেন দেখার কেউ নেই। অথচ এ অঞ্চলে গুণী-জ্ঞানী লোকের অভাব নেই।

শিক্ষামন্ত্রী প্রায়ই বলে থাকেন, “আমরা উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। সুতরাং আমাদেরকে এক টাকা দিয়ে দু’টাকার কাজ করতে হবে।” কথাটি অত্যন্ত সঠিক কিন্তু কার কথা কে শোনে। আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই সরকারি টাকায় অপরিকল্পিতভাবে কাজ হচ্ছে। যদি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হতো তাহলে আমরা অনেক আগেই উন্নতি করতে পারতাম। এখানে একজন মন্ত্রী বা এমপির নিজের এলাকায় কিছু করতে হলে অনেক বির্তকে পরতে হয়। কিন্তু স্থানীয় ক্ষমতাবানরা নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য সেই উন্নয়নের বারোটা বাজিয়ে দেন।

যেকোনো অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য মাইক বাজানো আবশ্যক বা ট্রেডিশন হয়েছে। কিন্তু এই মাইকের জ্বালায় বিয়ানীবাজারবাসী এখন অতিষ্ট। অনেককে মাইকের শব্দ শোনলে এখন গালি দিতেও শোনেছি।

তাহলে জনগণের কাছে স্বাভাবিক কারণে প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই বিয়ানীবাজার কি আমরা প্রত্যাশা করি। এসব থেকে কি কোন পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় নেই। কিভাবে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়?

লেখক: বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ কর্মী।

 

Developed by :