Tuesday, 18 June, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




ভোলার দৃষ্টিনন্দন নিজাম-হাসিনা মসজিদ

182853_1362

সাহাদাত শাহিন, ভোলা:: ভোলায় নির্মিত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক নিজাম-হাসিনা মসজিদ। শহরের উকিল পাড়ায় প্রায় দেড় একর জমির উপর নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। আগামীকাল শুক্রবার জুমা’র নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে মসজিদে নিয়মিত নামাজ শুরু হবে।

বাহারী কারুকাজ আর সৌর্ন্দয্যমন্ডিত মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। মার্বেল পাথরসহ বিভিন্ন পাথরে কারুকার্জ দ্বারা নির্মিত দুই তলা বিশিষ্ট এ মসজিদে রয়েছে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা অজুখানা এবং নামাজের স্থান।

ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, ২০১০ সালের জুন মাসে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫২ হাজার শ্রমিক মসজিদ নির্মাণ কাজে অংশ নিয়েছেন। আর্কিটেক্ট ফোরামের ডিজাইনার কামরুজ্জামান লিটন মসজিদটির ডিজাইন করেন।

১২০ ফুট উচ্চতার মিনার ও প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার গম্ভুজ রয়েছে। মসজিদের ভেতরে রয়েছে লাইব্রেরি, হিফ্জখানা, ক্যালিওগ্রাফি, আল্লাহু ডিজাইনের ফোয়ারাসহ আধুনিক স্থাপনা। এছাড়াও মসজিদের চারপাশে ফুলের বাগান তৈরী করা হয়েছে।

মসজিদটিতে একসাথে দুই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে নিজস্ব জেনারেটর ব্যবস্থাও। আধুনিক অজুখানা, এসি, ফ্যান ছাড়াও রয়েছে শ্বেত পাথরের টাইল্স ও কার্পেট বিছানো।

শুক্রবার জু’মার নামাজে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি এহসানুল হক জিলানী। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলে এটি প্রথম কোনো আধুনিক মসজিদ যা দ্বীপজেলা ভোলায় নির্মিত হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র উকিলপাড়ায় দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের যেন শেষ নেই। চালু হওয়ার পর থেকে এখানে মুসল্লিরা নিয়মিত নামাজ আদায়ের অপেক্ষায় আছেন।
এ ব্যাপারে নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজ সেবক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নাম কিংবা পরিচিতির জন্য নয়, আল্লাহর সন্তুটি পেতেই সেবাসেবামূলক কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, সবাইকে একদিন পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে তাই মৃত্যুর আগে অন্তত সওয়াবের জন্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেই এই মসজিদটি নির্মাণ করেছি। অসহায় দুস্থদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি তাদের জন্য সেবামূলক কাজ করছি। আর সে কারণেই বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়াও চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসা ও অপারেশন করা হচ্ছে।

গত ৭ বছরে ৯৩ হাজার ৪৬১ জন রোগীকে চক্ষু চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। মৃত্যুর পর যাতে কোনো কিছুই বন্ধ না হয়ে যায় সে জন্য একটি সুন্দর পরিচালনা কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে এবং তারাই ফাউন্ডেশনের দেখাশুনা করবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সমাজসেবক নিজাম উদ্দিন উদ্দিন শহরে একটি চক্ষু হাসপাতাল, ১৫টি মসজিদ, এতিমখানা, একটি চক্ষু হাসপাতাল, একটি বৃদ্ধাশ্রম ও ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠাসহ অসংখ্য সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করেছেন।

 





Developed by :