Thursday, 14 November, 2019 খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ |




প্রথম দেখায় প্রেম সৃষ্টির কারণ

zuh-11_2488[1]হঠাৎ অনুভব করছেন কেউ আপনাকে চুম্বকের মতো টানছে শুধু তার চোখে চোখ পড়তেই নিজের মধ্যে এক ভালোলাগা অনুভব হচ্ছে সে ভালোলাগায় বুঁদ হয়ে থাকা যায় নেশার মতো আর সেই সঙ্গে একটা কষ্টও অনুভূত হলো, সে তো আপনার নয় ফুঁপিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করলো নিজের ভেতর এক ধরনের চঞ্চলতা আর অস্থিরতা অনুভব করলেন আর এটাই হলো প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার অনুভূতিকেউ যখন প্রেমে পড়ে তখন তার ব্রেইনে প্রচুর পরিমাণেডোপামিনএবংনরইপিনেফ্রিনতৈরি হয়, যে কারণে এমন নেশাগ্রস্তের অনুভূতি হয়এক গবেষণায় দেখা যায় প্রজনন কালে স্ত্রী ভেড়াকে পুরুষ ভেড়ার ছবি দেখালে তার ব্রেইনে নরইপিনেফ্রিনের মাত্রা বাড়ে প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে তা থেকে যায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছরবিজ্ঞানীরা বর্তমানে একমত যে, প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার বিষয়টা সত্যি সত্যি ঘটে যেসব বিজ্ঞানী ক্ষেত্রে কাজ করছেন তারা বিশ্বাস করেন, যেসব সমাজে অস্থিরতা নেই, যুদ্ধ মৃত্যুর ঝুঁকি নেই সেসব সমাজে প্রেমে পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশিভ্যানিটি ফেয়ারের জরিপে তারই প্রতিফলন দেখা যায় জরিপে টেলিফোনের মাধ্যমে এক হাজার ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণ করেনজরিপের ফলাফল প্রকাশ করেসিবিএস নিউজ ডট কম সিবিএস ভাষ্যমতে আমেরিকার শতকরা ৫৬% লোক প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ায় বিশ্বাস করেটিনিট্রি কলেজ ডাবলিনের গবেষকরা ব্রেইন স্ক্যন করে দেখেন ব্রেইনের বিভিন্ন অংশ যেমন মিডিয়াল প্রিফ্রোন্টাল করটেক্স স্ন্যাপ জাজমেন্ট (পলক বিচার) অংশ নেয় তাদের এই গবেষণার ফলাফল নভেম্বরে জার্নাল অব নিউরোসায়েন্স প্রকাশিত হয়তারা দেখেন কারো সঙ্গে দেখা হওয়ার কয়েক মিলিসেকেন্ডের মধ্যে তার শারীরিক সৌন্দর্য মূল্যায়িত হয় প্যারা সিংগুলেট করটেক্স এর মাধ্যমে রস্টোমিডিয়াল প্রিফ্রোন্টাল করটেক্সের মাধ্যমে মূল্যায়িত হয় তার সামাজিক সক্ষমতাপ্রোফেসর ্যমিরেজ অহিও স্টেট ইউনিভর্সিটির একজন গবেষক তিনি বলেন, কারো সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই স্ন্যাপ জাজমেন্টের মাধ্যমে মানুষ বুঝতে পারে তার সঙ্গে কি ধরনের সম্পর্ক হতে যাচ্ছেফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমাজিং এর মাধ্যমে ব্রেইন স্ক্যান করে এনড্রিয়াস বারটেল সেমির জ্যকি দেখেন যে প্রিয় বন্ধু এবং প্রেমাস্পদের মধ্যে ব্রেইনের প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতা আছেপ্রেমাস্পদের ছবি দেখলে ব্রেইনের উভয় পার্শ্বের মিডিয়াল ইনসুলা, এন্টেরিয়র সিংগুলেট করটেক্স, কডেট নিউক্লিয়াস এবং পুটামেন সক্রিয় হয় নিস্ক্রিয়তা দেখা যায় পোস্টেরিয়র সিংগুলেট জাইরাস, এমিগডালা এবং ডান পার্শ্বের প্রিফ্রোন্টাল, প্যারাইটাল মিডলটেম্পরাল করটেক্সেব্রেইন স্ক্যানে আরো দেখা যায় যারা পাগলপ্রায় ভালোবাসেন তাদের ব্রেইনের উত্তেজিত অংশ এবং কোকেইনে আসক্তদের উত্তেজিত অংশ একই অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রে ব্রেইনের একই জায়গা উত্তেজিত হয়এই প্রেমে পড়াটা উভয়পক্ষের একসঙ্গে হলে ভালো, একটি সুন্দর সম্পর্কের সূচনা হয় না হলে যে প্রেমে পড়ে তার জন্য শুরু হয় এক কষ্টকর জীবন কথায় বলে প্রেমরোগ বড় রোগমনোবিজ্ঞানী ডরোথি টিনভ ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়ার নাম দিয়েছেন লিমিরেন্ট রিঅ্যাকশন যার প্রতি এই অনুভূতি হয় অর্থাৎ যার প্রেমে তিনি পড়েন তার নাম দিয়েছেন লিমিরেন্ট অবজেক্ট লিমিরেন্ট অবজেক্টকে নিয়ে ইনট্রুসিভ চিন্তা আসতে থাকে ইনট্রুসিভ চিন্তা হলো মনের বিরুদ্ধে চিন্তা আসা ফলে তা তাকে অমনোযোগী করে ফেলে পড়াশুনা, কাজেকর্মে মনোনিবেশ করতে কষ্ট হয় কখনো কখনো ব্যর্থ হয়যেরকম অনুভূতি তার মধ্যে হচ্ছে, সে রকম অনুভূতি যেন লিমিরেন্ট অবজেক্টের মধ্যেও হয় এমনটা প্রত্যাশা করতে থাকে তীব্রভাবে যদি লিমিরেন্ট অবজেক্টের মধ্যে সামান্য কোনো প্রতিক্রিয়াও সে দেখতে পায় তাহলে ভীষণ আনন্দিত হয় সব চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, কাজকর্ম লিমিরেন্ট অবজেক্টের প্রতি লক্ষ্য করে চলতে থাকে তারএমনকি তার জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ক্রমে ক্রমে বাদ পড়ে যায় এক ধরনের পক্ষপাতদুষ্টতা কাজ করে তার মধ্যে সে লিমিরেন্ট অবজেক্টের নেতিবাচক দিকগুলি দেখতে পায় না ডিল্যুশন পর্যায়ের এক ভ্রান্ত বিশ্বাসের ফলে সে বিশ্বাস করে লিমিরেন্ট অবজেক্টও তাকে ভালবাসে এই হলো লিমিরেন্ট রিঅ্যাকশন বা প্রেমে পড়ার বিজ্ঞানসম্মত বৈশিষ্ট্যতাই প্রেমে পড়ার মধ্যে দিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তা জনিত সমস্যা, যেমনজেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার, প্যানিক ডিসওর্ডার, অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডারের সূচনা ঘটতে পারে আবার সম্পর্ক না হলে ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় কেউ কেউ অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডারেও ভোগেনপ্রেম সুন্দর, শাশ্বত প্রেম মানুষকে মুক্তি দেয় স্থুল যৌনতা থেকে প্রেমের আগুনে পুড়ে মানুষ খাঁটি হয়

 

 





সর্বশেষ সংবাদ

Developed by :